দেওয়ান মাসুকুর রহমান,
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ১৮ মে ২০২৬ : শ্রীমঙ্গলে মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলা নাগরিক পরিষদ।
রবিবার (১৭ মে ২০২৬) দুপুরে শহরের গ্র্যান্ড তাজ রেস্টুরেন্টের ৩য় তলার মিলনায়তনে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন উপজেলা নাগরিক পরিষদের সহসভাপতি ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. মোসাব্বির আল মাসুদ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলার কারনে। মাদক ব্যবসায়ী আলামিন, রুবেল, চায়না রিপন, এদের দ্বারা আমাকে হত্যা করার পরিকল্পনা।
রুহেল ও আলামিন জেলে থাকায় নির্যাতিত শ্রমিক পরিচয় নুরু আলম, শামীম ও ফয়েজ ফারুককে তারা ভাড়া করেছে। প্রথমে আমার কাছে চাঁদা দাবি করা হয় আমি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে আমার অধীনে পরিচালিত গাড়ি গুলা আটকাইয়া চাদা আদায় করে। আরো ঘটনাস্থলে আমাকে উপস্থিত করার জন্য লাইভ ভিডিও করে চক্রান্ত করে আমাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে।
যেটা আমি বুঝতে পেরেছি এবং আজ পর্যন্ত তাদেরকে চাঁদা আমার দিতে হচ্ছে। আমি খুলনা সিলেট সহ বিভিন্ন মুকামে তিন কোটি ১৭ লক্ষ টাকা পাওনা আছি। আমি দেশ জাতীয় মানবতার কাছে বিচার চাই তদন্ত করে সাক্ষী প্রমান সহ আমি ন্যায়বিচার প্রার্থী।
বিস্তারিত আমার দরখাস্তে উল্লেখ করা আছে। এদিকে সম্প্রতি অপর একটি চক্র আমাকে নিয়ে নতুন চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। গত ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে “সিলেটের নিউজ” নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে সংবাদ প্রকাশ করা হয় যে, রুহেল ও আল আমিনকে ভাড়া করা হয়েছে আমাকেসহ আরও কয়েকজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে। প্রথমে বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও পরে এ বিষয়ে গভীরভাবে অনুসন্ধান করলে বিভিন্ন সন্দেহজনক তথ্য। সামনে আসে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, জনৈক ব্যক্তি মাদক ব্যবসায়ী চায়না রিপনের পক্ষে শ্রীমঙ্গল থানায় বিভিন্ন তদবির করছেন। একইসঙ্গে সোনার বাংলা রোডের মাদক ব্যবসায়ী স্বপনের সঙ্গেও ওইসব ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। এছাড়া মাদক কারবারি রুহেল ও আল আমিনের সঙ্গে গভীর যোগাযোগেরও বিভিন্ন আলামত পাওয়া যায়।
মূলত এই মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আমি সবসময় সোচ্চার থাকি। একাধিকবার এইসব বিষয়ে আমি লাইভে এসে কথা বলেছি। যে কারণে মাদক ব্যবসায়ীরা আমার বিপক্ষে থাকে সবসময়। আর এই সুযোগে ওই মাদক কারবারিরা আমার ব্যবসায়ী শত্রুদের সঙ্গে একাত্ম হয়েছে।
সম্প্রতি আমি লেবু বাজারে পরিবহন ব্যবসা শুরু করার উদ্যোগ নিলে নুরে আলম নামে এক ব্যক্তি নির্যাতিত মোটর শ্রমিক পরিচয়ে আমার ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করেন, যা আমার কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। পরে তার গতিবিধির ওপর নজরদারি শুরু করি। একপর্যায়ে গত ৬ মে ২০২৬ রাত ৯টার দিকে সিলেটগামী একটি লেবুর গাড়ি আটকে আমার কর্মচারী পারভেজের কাছ থেকে জোরপূর্বক ৪৩০০ টাকা আদায় করে নুর আলম, শামীম ও ফয়েজ। বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ বা কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে আমি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে থাকি।
একইসঙ্গে জমশেদ এন্টারপ্রাইজের মালিক জমশেদ সাহেব সিলেট লাইনের গাড়ি থেকে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হুমকি দেওয়া হয়। পরদিন শ্রমিকদলের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, ফারুক, নুরে আলম, শামীমসহ কয়েকজন ব্যক্তি পুনরায় জমশেদকে চাপ প্রয়োগ করে।
গোপন সূত্রে জানতে পারি, ওই সময় আশপাশে দেশীয় অস্ত্রসহ কয়েকজন অবস্থান করছিল। এতে আমার কাছে প্রতীয়মান হয় যে, আমাকে ঘটনাস্থলে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলার চেষ্টা করা হতে পারে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আমি জমশেদকে টাকা দিয়ে দিতে বলি।
৮ মে ২০১৬ শুক্রবার সন্ধ্যায় পৌর শ্রমিকদলের সেক্রেটারি মোঃ ফারুক আমার আড়ৎদার বাবলুকে মোটরসাইকেলে তুলে বিএনপির আহ্বায়ক নূরে আলম সিৎিকির অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে লেবু বাজারের ব্যবস্য দিয়ে আলোচনা হয় এবং বাবলুর কাথ থেকে এ বিষয়ে অবগত হন। এ সময় বাবলু জানায়, এই ব্যবসার বৈধ মালিক মদল্লির চাচা। জনাব নূরে আলম সাহেব বিস্তারিত জেনে ফারুককে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘লেবু বাজারে তাদের বৈধ ব্যবসা, ওখানে তোমরা কেন যাচ্ছো?’ এবং বাবলুকেও চলে আসতে বসেন। বাবলু ফারুককে রেখে চলে আসে।
একই রাতে নূরে আলম নির্ধাতিত শ্রমিক ফয়েজকে দিয়ে জমশেদের কাছ থেকে সিলেট লাইনের নামে ২০০০ টাকা আদায় করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
রাত গাড়ে ১১টার দিকে শ্রমশেদ ও বাবলুকে রেল মসজিদের সামনে ডেকে প্রতিদিন ২০০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে ফলে তারা জানায়। অনাধ্যয় ব্যবস্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। এটি এক ধরনের চাঁদাবাজি, যা বর্তমান সরকারের নীতিবিরোধী। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ অরুরি।
পরিশেষে আমি বলতে চাই, আমার মূল ব্যবসায় যাতে আমি ফিরে যেতে না পারি তাই আমাকে নিয়ে লেখে নান্য চোর। বিশেষ করে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে আমি অবস্থান নেওয়ায় মাদকচক্ত ও মাদকচক্রের কাথ থেকে যারা মরসোহারা পেত তারা আমার ওপর তিন্ত হয়ে আমাকে হত্যাসহ আমার প্রতি করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রযেছে।
আমি আজ এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আমার ব্যবসা, জীবন ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করছি।

