চীন সফর শেষে ট্রাম্পের মুখ থেকে বের হওয়া একটা বক্তব্য প্রমাণ করে দিয়েছে – প্রযুক্তিকে অস্ত্র বানিয়ে চীনকে কাবু করার যে শেষ কার্ডটি আমেরিকার হাতে ছিল তা এখন সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে গেছে। ট্রাম্প নিজে স্বীকার করেছেন এনভিডিয়ার অত্যন্ত শক্তিশালী এইচ 200 চিপের ছাড়পত্র দেওয়া সত্ত্বেও চীন তা কিনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
কারণ চীন এখন সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে এই চিপ নিজেরাই তৈরি করবে। ট্রাম্প বলেছেন:
“আমাদের এনভিডিয়া-র কাছে অনেক উন্নত স্তরের চিপ আছে। চীনের অবশ্যই এটা দরকার,এবং হ্যাঁ,বিষয়টা আমরা চীনের সাথে আলাপ করেছি।কিন্তু তারা এটা কিনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে,কারণ তারা নাকি নিজেদের প্রক্ষুক্তি নিজেরাই তৈরি করতে চায়।আমার মনে হয় এ নিয়ে কিছু একটা ঘটতে পারে।’”
এটা ছিল ট্রাম্পের বক্তব্যে। ভাবতে পারছেন বিষয়টা!
এই এনভিডিয়া-র সিইও জেনসেন হুয়াংকে ট্রাম্প তার বিমানে করে বেইজিংয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন মূলত একটি বড় বাণিজ্যিক চুক্তি নিশ্চিত করতে। আমেরিকা দশটি বড় চীনা কোম্পানিকে পঁচাত্তর হাজার করে এইচ ২০০ চিপ কেনার অনুমতি দিয়েছিল, এবং শর্ত রেখেছিল এই বিক্রির লভ্যাংশের পঁচিশ শতাংশ মার্কিন সরকারকে দিতে হবে।
ট্রাম্প ভেবেছিল এই উন্নত চিপের লোভ দেখিয়ে তিনি চীনকে দরকষাকষিতে বাধ্য করবেন, কিন্তু শি জিনপিং সেই ফাঁদে পা দেননি।
চীন খুব ভালো করেই জানে আজ আমেরিকার চিপের ওপর নির্ভরতা বাড়ালে কাল ওয়াশিংটন আবারও নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তাদের প্রযুক্তি খাতকে পঙ্গু করে দিতে পারে।
তাই হুয়াওয়ের তৈরি নিজস্ব এআই চিপের ওপর ভরসা করে তারা ডিপসিক এর মতো বিশ্ব কাঁপানো এআই মডেল তৈরি করেছে।
আমেরিকার চিপ ছাড়া চীনের প্রবৃদ্ধি থমকে যাবে এই ধারণা যে কতটা ভুল ছিল তা চীনের এই শক্ত অবস্থানই প্রমাণ করে দেয়। মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারও এখন স্বীকার করছেন চিপ কেনার বিষয়ে বেইজিং তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং তারা মার্কিন হাই টেক পণ্যকে নিজেদের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী হুমকি হিসেবে দেখছে।
এক সময় চীনের চিপ বাজারের পঁচানব্বই শতাংশ এনভিডিয়ার দখলে থাকলেও আমেরিকার একের পর এক নিষেধাজ্ঞার কারণে আজ তা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
আর এই সুযোগে চীন নিজেদের অভ্যন্তরীণ চিপ শিল্পকে অনেকটাই শক্তিশালী করে নিয়েছে। ট্রাম্পের এই স্বীকারোক্তি মূলত আমেরিকার প্রযুক্তিগত একাধিপত্যের এক বড় পরাজয়। যে চিপকে আমেরিকা তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি মনে করত আজ তা বেইজিংয়ের দরবারে এক প্রকার মূল্যহীন হয়ে গেছে।

