শহীদুজ্জামান শিমুল,
সাতক্ষীরার সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীদাড়ি গ্রামে তাসলিমা খাতুন (চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা) নামে এক গৃহবধূর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৬ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের দেওয়া খবরে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সাদ্দাম হোসেন পলাতক রয়েছেন।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাদ্দাম হোসেন রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন এবং পরিবার নিয়ে ওই এলাকায় তার নানার বাড়িতে বসবাস করতেন। দম্পতির দুটি সন্তান রয়েছে। সম্প্রতি পরিবারে আর্থিক সংকট দেখা দেয়। এর মধ্যে তাসলিমা খাতুন বাবার বাড়ি থেকে একটি ছাগল নিয়ে আসেন, যা স্বামীকে না জানিয়ে বিক্রি করে দেন সাদ্দাম হোসেন। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিরোধ ও দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহের জেরে শনিবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে তাদের দুই সন্তানকে পাশের ঘরে আটকে রেখে স্বামী-স্ত্রী মারামারিতে লিপ্ত হন। পরে পরিবারের লোকজন তাসলিমা খাতুনের গলাকাটা মরদেহ ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন।
স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, সাদ্দাম হোসেন স্ত্রীর প্রতি সন্দেহপ্রবণ ছিলেন এবং ঘরে সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর পুলিশ তদন্তের স্বার্থে সিসি ক্যামেরার ডিভাইস জব্দ করেছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল-এর মর্গে মরদেহ পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদুর রহমান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতিও চলছে।

