এম.শাহীন আল আমীন, জেলা প্রতিনিধি :
জামালপুরের বকশীগঞ্জের বগারচর ইউনিয়নের সারমারা গ্রামের এক ধর্ষিতা ধর্ষক নূর আলমের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে। ধর্ষকের পরিবার মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বকশীগঞ্জ উপজেলার বগারচর ইউনিয়নের ধারারচর গলকাটি খুনিপাড়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে নূর আলমের সাথে আত্মীয়তার সূত্রে সারমারা গ্রামের এক যুবতীর পরিচয় ঘটে। পরিচয় পর্ব থেকেই প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে।
এক পর্যায়ে ওই যুবতীকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় নূর আলম(২৫)। বিয়ের আশ^াস দিয়ে ১৬ এপ্রিল ওই যুবতীকে বকশীগঞ্জ বাজারে আসতে বলেন। নূর আলমের কথা মতে ওই যুবতী বকশীগঞ্জ বাজারে আসার পর নূর আলম তাকে নিজ বাড়ীতে নিয়ে যায়। নিজ বাড়ীতে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ১৬ এপ্রিল থেকে ২২ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করেন।
২২ এপ্রিল ধর্ষিতা ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে ধর্ষক নূর আলমসহ বাড়ীর কতিপয় লোকজন মারপিট করে তাকে বাড়ী থেকে বের করে দেয়। কোন উপায় না পেয়ে অসুস্থ্য অবস্থায় প্রথমে বকশীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জামালপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ বিষয়ে বিষয়ে ধর্ষিতা নারী বকশীগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ আদালতে মামলা দায়ের করার পরামর্শ দেন। সর্ব শেষ তিনি ২৮ মে জামালপুরের বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১ মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি জামালপুরের পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার প্রধান আসামী নূর আলম।এ ব্যাপারে ধর্ষক নূর আলম জানান, মামলা হওয়ার পর বিষয়টি আপোষ মিমাংসার প্রক্রিয়া চলমান আছে। সম্ভবত বাদী মামলা তুলে নিবেন। ইউপি মেম্বার আফসার আলী জানান, আপোসের বিষয়ে কথা হয়ে ছিলো। তবে আপোসযোগ্য ঘটনা না হওয়ায় আপোষ করা হয়নি। বিষয়টি আদালতেই ফয়সালা হবে।
এ ব্যাপারে বগারচর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সোহেল রানা পলাশ বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত আছি। ধর্ষণ মামলা আপোষ যোগ্য না। তাই আপোষ করার বিষয়ে কোন উদ্যোগ গ্রহন করা হয়নি।

