মো আলম, বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার পার্শ্ববর্তী রামুতে অভিনব কৌশলে পাচারকালে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবাসহ নাইক্ষ্যংছড়ির তিন নারী মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫)।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তারা নিজেদের শরীরে কালো পলিথিন ও স্কচটেপ দিয়ে ইয়াবার বান্ডেল পেঁচিয়ে বহন করছিল বলে জানিয়েছে র্যাব।
শনিবার বিকেলে রামু থানাধীন বৌদ্ধ মন্দির সড়ক ও চৌমহনী বাজার এলাকায় পৃথক দুই দফা অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার জারুলিয়াছড়ি এলাকার লাইলি বেগম (২৬), গুল বাহার (৩৫) ও হাজেরা খাতুন (৬৫)।
র্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নাইক্ষ্যংছড়ির পার্শ্ববর্তী রামুর হাইটুপি (বুথপাড়া) সংলগ্ন নাইক্ষ্যংছড়ি-রামু সড়কে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি শুরু করে র্যাবের একটি আভিযানিক দল। এ সময় সন্দেহভাজন একটি ইজিবাইক থামিয়ে নারী র্যাব সদস্যদের সহায়তায় দুই নারী যাত্রীর দেহ তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিতে তাদের শরীরে বিশেষ কৌশলে পেঁচানো অবস্থায় ৩৮টি ইয়াবার বান্ডেল উদ্ধার করা হয়।
পরে আটক দুই নারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রামু চৌমহনী বাজারের রহিম কমপ্লেক্সের সামনে অভিযান চালিয়ে হাজেরা খাতুনকে আটক করা হয়। তার শরীর থেকেও আরও ২২টি ইয়াবার বান্ডেল উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, উদ্ধার হওয়া ৬০টি বান্ডেল থেকে মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক কারবারে ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে র্যাব-১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার নারীরা স্বীকার করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে নারী সদস্যদের ব্যবহার করে তারা এই পাচার কার্যক্রম চালাত।”
তিনি আরও বলেন, মাদক পাচার রোধে র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তভিত্তিক সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
র্যাব জানায়, গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে
উদ্ধারকৃত আলামতসহ রামু থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে

