দেওয়ান মাসুকুর রহমান,
হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিশন গঠন করে দায়ীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি।
শনিবার (১৬ মে ২০২৬) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির চিকিৎসা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন থেকে এ দাবি করা হয়।
বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং পার্টির চিকিৎসা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগের আহবায়ক কমরেড মোস্তফা আলমগীর রতনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য কমরেড নজরুল হক নীলু।
বাংলাদেশে ছাত্র মৈত্রীর সভাপতি ছাত্রনেতা অতুলন দাস আলোর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন- প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন, জাতীয় কৃষক সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক কৃষক নেতা দীপংকর সাহা দীপু, জাতীয় শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় নেতা সাব্বাহ আলী খান কলিন্স, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন রাজু, জাতীয় গার্হস্থ্য নারী শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মুর্শিদা আখতার নাহার, বাংলাদেশ নারী মুক্তি সংসদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শিউলি শিকদার, বাংলাদেশ শান্তি পরিষদের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ফজলু, বাংলাদেশ যুব মৈত্রীর সহ-সভাপতি যুব নেতা আব্দুল আহাদ মিনার।
মানববন্ধনে অনলাইনে বিশেষ অতিথি হিসেবে যুক্ত থেকে বক্তব্য দেন প্রখ্যাত চিকিৎসক পারকিনসন্স রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আহসান হাবিব হেলাল।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। একজন হাম আক্রান্ত রোগী ১২ থেকে ১৪ জনকে আক্রান্ত করে এবং দুই ঘণ্টা ধরে হামের জীবাণু ক্রিয়াশীল থাকে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও অন্যান্য মাধ্যমে জানা যায়, হাম বর্তমানে মহামারি হিসেবে দেখা দিয়েছে।
প্রায় ৬০ হাজার শিশু হাম আক্রান্ত হয়েছে। পাঁচ শতাধিক শিশু ইতোমধ্যে মারা গেছে।
তারা আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ইউনিসেফের সতর্কতা সত্ত্বেও সে সময়কার সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেননি, ফলে অন্যান্য টিকাদান কর্মসূচিসহ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ বাড়ানোর জন্য ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হতো তাও বন্ধ ছিল। একদিকে মারাত্মক ছোঁয়াচে হাম ও অপুষ্টিজনিত কারণে আক্রান্ত শিশু জীবন রক্ষা করতে পারছে না, মৃত্যুবরণ করছে।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে হাম সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এসেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের অদক্ষতা ও টিকা কিনতে অপারগাতার ফলে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। এতগুলো শিশুর মৃত্যুর দায় অন্তর্বর্তী সরকার এড়াতে পারে না।
অপুষ্টি নিয়ে বেড়ে ওঠা শিশু আগামীতে দেশের জন্য আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপ হবে।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা অবিলম্বে আইসিইউ বাড়ানোসহ শিশুদের জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
পাশাপাশি হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিশন গঠন করে দায়ীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানানো হয় মানববন্ধন থেকে।

