জাবেদ শেখ, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি:
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়িত্বরত চিকিৎসকের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন এক চিকিৎসকসহ অন্তত সাতজন। আহত চিকিৎসককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের ইমারজেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত মেডিকেল অফিসার নাসির ইসলামকে প্রথমে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর পৌরসভার উত্তর বিলাসখান এলাকার বাসিন্দা লাল মিয়া কাজী হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রাত ১০টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টা ৪০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা। এরপর চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
অভিযোগ উঠেছে, একপর্যায়ে ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল ইমারজেন্সি ওয়ার্ডে ঢুকে চিকিৎসক নাসির ইসলামের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা পাথর, লাঠি ও কিল-ঘুষি দিয়ে তাকে গুরুতর আহত করে। চিকিৎসককে রক্ষা করতে গিয়ে আহত হন হাসপাতালের অফিস সহায়ক এসকেন্দার শেখ এবং পাঁচ আনসার সদস্য। এ সময় ইমারজেন্সি অবজারভেশন ওয়ার্ডেও ভাঙচুর চালানো হয়।
আহত চিকিৎসক নাসির ইসলাম দাবি করেন, রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাকে ঢাকায় রেফার করা হয়েছিল। তবে স্বজনরা রাতে নিতে রাজি হননি। পরে রোগীর মৃত্যুর খবর জানার পর কয়েকজন তার কক্ষে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালায়।
অন্যদিকে নিহত লাল মিয়া কাজীর পুত্রবধূ লাকি আক্তার অভিযোগ করেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর রোগীকে কিছু ওষুধ ও ইনজেকশন দেওয়া হলেও অবস্থার অবনতি ঘটে। কয়েকবার ডাক্তারকে ডাকলেও তিনি রোগীর কাছে আসেননি বলে দাবি করেন তিনি। পরে দীর্ঘ সময় পর এসে রোগীর মৃত্যুর কথা জানানো হয়।
ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ আলম জানান, ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি, তবে মামলার প্রস্তুতি চলছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আল আমিন ও জসীম উদ্দিন নামে দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মিতু আক্তার বলেন, আহত চিকিৎসকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার ঘটনায় চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

