প্রবাসী আয়ের নিরাপদ প্রেরণ, সঠিক ব্যবহার এবং টেকসই সঞ্চয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইধহশ অংরধ এর সুরক্ষা প্রকল্প কুমিল্লার ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে আয়োজন করে “এজেন্ট ব্যাংকিং উন্নয়ন কর্মশালা ও ব্যবসা সম্মেলন। এই আয়োজনে কুমিল্লা, ফেনী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রায় ১২০ জন এজেন্টসহ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স গুরুত্বকে কেন্দ্র করে বাস্তবধর্মী বিষয় এবং করনীয় তুলে ধরা হয়। আলোচনায় নিরাপদ চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানো, প্রাপ্ত অর্থের পরিকল্পিত ব্যবহার, ডিজিটাল লেনদেনে সচেতনতা বৃদ্ধি, এবং পরিবারভিত্তিক বাজেট তৈরি করে নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা বিষয়ক আলোচনা করা হয়, বিশেষভাবে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে কীভাবে ছোট ছোট সঞ্চয় ভবিষ্যতের বড় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংক এশিয়ার অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জিয়াউল হাসান মোল্লা। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন মির্জা আজহার আলী (ডিএমডি), মোহাম্মদ আলী (ভিপি ও হেড অব অডিট), ব্যাংকের বিভিন্ন ব্যবসায়িক শাখার প্রধানগণ, এবং টঘঈউঋ-এর কুমিল্লা ও ফেনী জেলা প্রতিনিধি মোঃ ইকবাল হোসেন ও হারুন অর রশিদ মামুন।
বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের কষ্টার্জিত আয় শুধু পরিবার চালানোর জন্য নয়, বরং সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে তা ভবিষ্যতের নিরাপত্তা, সন্তানদের শিক্ষা, এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তারা এজেন্টদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা গ্রাহকদের শুধু লেনদেন সেবা নয়, বরং আর্থিক সচেতনতার দিক থেকেও সহযোগিতা করেন।
কর্মশালায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ, স্বচ্ছ লেনদেন নিশ্চিতকরণ এবং গ্রাহক সেবার মান উন্নয়নের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন এবং মাঠপর্যায়ে কাজ করার ক্ষেত্রে কীভাবে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা যায়, সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা পান।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংক এশিয়া প্রবাসী রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনায় একটি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসী আয় যদি সঠিকভাবে ব্যবহৃত ও সঞ্চয় করা যায়, তাহলে তা শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্যও শক্ত ভিত্তি তৈরি করে।
কর্মশালার মূল বার্তা ছিল পরিষ্কার—“নিরাপদ পথে রেমিট্যান্স পাঠান, পরিকল্পনা করে ব্যয় করুন, নিয়মিত সঞ্চয় করুন।” এই বার্তাটি বাস্তবায়িত হলে প্রবাসী ও তাদের পরিবার আর্থিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হতে পারবে এবং তাদের জীবনমান টেকসইভাবে উন্নত হবে।
ব্যাংক এশিয়ার এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম ইতোমধ্যেই দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আর্থিক সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। এই ধরনের উদ্যোগ সঠিক রেমিট্যান্স ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবারভিত্তিক আর্থিক স্থিতিশীলতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

