ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস উপলক্ষে শনিবার (১৬ মে) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ভাসানী মঞ্চের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ‘ফারাক্কা বাঁধ–মরণফাঁদ ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রয়াত মন্ত্রী মশিউর রহমান যাদু মিয়ার কন্যা, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও রাজনীতিক রীটা রহমান।
তিনি বলেন, ১৬ মে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রতিরোধ ও অধিকার আদায়ের এক গুরুত্বপূর্ণ দিন। ১৯৭৬ সালের এই দিনে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ফারাক্কা লংমার্চে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছিল পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে। তিনি ভাসানীর অবদান স্মরণ করে বলেন, নদী ও পানির অধিকার রক্ষায় তাঁর নেতৃত্ব আজও অনুপ্রেরণার উৎস।
রীটা রহমান আরও বলেন, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে সৃষ্ট সংকট থেকে বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি মুক্ত হয়নি। শুষ্ক মৌসুমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া এবং বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দেওয়ার ফলে দেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ভাসানী মঞ্চের আহ্বায়ক, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ। তিনি বলেন, ফারাক্কা বাঁধের কারণে দেশের উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পরিবেশগত বিপর্যয় ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, মৎস্য সম্পদের ক্ষতি এবং সুন্দরবনের লবণাক্ততা বৃদ্ধিকে তিনি গভীর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাসাসের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেক, জাহাঙ্গীর শিকদার, বাংলাদেশ উন্নয়ন পার্টির সভাপতি ও ভাসানী মঞ্চের সদস্য সচিব সৈয়দ মোখলেসুর রহমান, স্কপ-এর যুগ্ম সমন্বয়ক এ এ এম ফয়েজ হোসেন, গ্রীন পার্টির সভাপতি রাজু আহমেদ খান, নেজামে ইসলাম পার্টির সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল হক, বাংলাদেশ জনমত পার্টির আহ্বায়ক সুলতান উদ্দিন জিসান এবং বাংলাদেশ পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান মো. সিদ্দিকুর রহমান খান প্রমুখ।
সভায় বক্তারা পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত এবং নদী রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

