Bangla FM
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • কলাম
  • ভিডিও
  • অর্থনীতি
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • প্রবাস
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • মতামত
  • লাইফস্টাইল
No Result
View All Result
Bangla FM

বাংলা কাব্যধারায় আমূল বদলে দিয়েছিলেন কিংবদন্তি কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য

Bangla FM OnlinebyBangla FM Online
১০:৩১ pm ১৩, মে ২০২৬
in Semi Lead News, কলাম
A A
0

সৈয়দ আমিরুজ্জামান

যে শিশু ভূমিষ্ঠ হল আজ রাত্রে
তার মুখে খবর পেলুম:
সে পেয়েছে ছাড়পত্র এক,
নতুন বিশ্বের দ্বারে তাই ব্যক্ত করে অধিকার
জন্মমাত্র সুতীব্র চীৎকারে।
খর্বদেহ নিঃসহায়, তবু তার মুষ্টিবদ্ধ হাত
উত্তোলিত, উদ্ভাসিত
কী এক দুর্বোধ্য প্রতিজ্ঞায়।
সে ভাষা বোঝে না কেউ,
কেউ হাসে, কেউ করে মৃদু তিরস্কার।
আমি কিন্তু মনে মনে বুঝেছি সে ভাষা
পেয়েছি নতুন চিঠি আসন্ন যুগের-
পরিচয়-পত্র পড়ি ভূমিষ্ঠ শিশুর
অস্পষ্ট কুয়াশাভরা চোখে।
এসেছে নতুন শিশু, তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান;
জীর্ণ পৃথিবীতে ব্যর্থ, মৃত আর ধ্বংসস্তূপ-পিঠে।
চলে যেতে হবে আমাদের।
চলে যাব- তবু আজ যতক্ষণ দেহে আছে প্রাণ
প্রাণপণে পৃথিবীর সরাব জঞ্জাল,
এ বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযোগ্য ক’রে যাব আমি-
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
অবশেষে সব কাজ সেরে,
আমার দেহের রক্তে নতুন শিশুকে
করে যাব আশীর্বাদ,
তারপর হব ইতিহাস।।
-(‘ছাড়পত্র’ – সুকান্ত ভট্টাচার্য)

বাংলা সাহিত্যের মার্কসবাদী ও প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী কিংবদন্তি কবি এবং বিপ্লবী কমরেড সুকান্ত ভট্টাচার্যের ৭৯তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ।

পিতা-নিবারন ভট্টাচার্য, মা-সুনীতি দেবী। ১৯২৬ সালের ১৫ আগস্ট তিনি তাঁর পৈতৃক নিবাস ফরিদপুর জেলার, বর্তমান গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার, উনশিয়া গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। এক নিম্নবিত্ত পরিবারে জন্ম। বেলেঘাটা দেশবন্ধু স্কুল থেকে ১৯৪৫ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে অকৃতকার্য হন। এ সময় ছাত্র আন্দোলন ও বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ায় তাঁর আনুষ্ঠানিক শিক্ষার সমাপ্তি ঘটে। সুকান্তের বাল্যবন্ধু ছিলেন কবি অরুনাচল বসু। সুকান্ত সমগ্রতে লেখা সুকান্তের চিঠিগুলির বেশিরভাগই অরুনাচল বসুকে লেখা। অরুনাচল বসুর মাতা কবি সরলা বসু সুকান্তকে পুত্রস্নেহে দেখতেন। সুকান্তের ছেলেবেলায় মাতৃহারা হলেও সরলা বসু তাকে সেই অভাব কিছুটা পুরন করে দিতেন। কবির জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছিল কলকাতার বেলেঘাটার ৩৪ হরমোহন ঘোষ লেনের বাড়ীতে। সেই বাড়িটি এখনো অক্ষত আছে। পাশের বাড়ীটিতে এখনো বসবাস করেন সুকান্তের একমাত্র জীবিত ভাই বিভাস ভট্টাচার্য। পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কমরেড বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সুকান্তের সম্পর্কিত ভাতুষ্পুত্র।

১৯৪৪ সালে কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ :

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, তেতাল্লিশের মনন্তর, ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রভৃতির বিরুদ্ধে তিনি কলম ধরেন। ১৯৪৪ সালে তিনি ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যপদ লাভ করেন। সেই বছর আকাল নামক একটি সংকলনগ্রন্থ তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয়। কৈশোর থেকেই সুকান্ত যুক্ত হয়েছিলেন শ্রমিক শ্রেণির মতাদর্শে জগতটাকে বদলে ফেলার প্রত্যয়ে সাম্যবাদী রাজনীতির সঙ্গে। পরাধীন দেশের দুঃখ দুর্দশাজনিত বেদনা এবং শোষণমুক্ত স্বাধীন সমাজের স্বপ্ন, শোষিত মানুষের কর্ম জীবন এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবীর জন্য সংগ্রাম তাঁর কবিতার মূল প্রেরণা। ১৯৪১ সালে সুকান্ত কলকাতা রেডিওর গল্পদাদুর আসরে যোগদান করেন। সেখানে প্রথমে তিনি রবীন্দ্রনাথের কবিতা আবৃত্তি করেন। রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর সেই আসরেই নিজের লেখা কবিতা পাঠ করে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান। গল্পদাদুর আসরের জন্য সেই বয়সেই তাঁর লেখা গান মনোনীত হয়েছিল আর তাঁর সেই গান সুর দিয়ে গেয়েছিলেন সেকালের অন্যতম সেরা গায়ক পঙ্কজ মল্লিক। সুকান্তকে আমরা কবি হিসেবেই জানি। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ যেমন কেবল মাত্র কবি ছিলেন না, সাহিত্যের সকল ক্ষেত্রে তাঁর ছিলো অবাধ বিচরণ। তেমনি সুকান্তও ঐ বয়সেই লিখেছিলেন কবিতা ছাড়াও, গান, গল্প, নাটক এবং প্রবন্ধ। তাঁর ‘ছন্দ ও আবৃত্তি’ প্রবন্ধটি পাঠেই বেশ বোঝা যায় ঐ বয়সেই তিনি বাংলা ছন্দের প্রায়োগিক দিকটিই শুধু আয়ত্বে আনেন নি, সে নিয়ে ভালো তাত্বিক দক্ষতাও অর্জন করেছিলেন।

আট-নয় বছর বয়স থেকেই সাহিত্য চর্চার শুরু :

আট-নয় বছর বয়স থেকেই সুকান্ত লিখতে শুরু করেন। স্কুলের হাতে লেখা পত্রিকা ‘সঞ্চয়ে’ একটি ছোট্ট হাসির গল্প লিখে আত্মপ্রকাশ করেন। তার দিনকতক পরে বিজন গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘শিখা’ কাগজে প্রথম ছাপার মুখ দেখে তাঁর লেখা বিবেকান্দের জীবনী। মাত্র এগার বছর বয়সে ‘রাখাল ছেলে’ নামে একটি গীতি নাট্য রচনা করেন। এটি পরে তাঁর ‘হরতাল’ বইতে সংকলিত হয়। বলে রাখা ভালো, পাঠশালাতে পড়বার কালেই ‘ধ্রুব’ নাটিকার নাম ভূমিকাতে অভিনয় করেছিলেন সুকান্ত। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাল্য বন্ধু লেখক অরুণাচল বসুর সঙ্গে মিলে আরেকটি হাতে লেখা কাগজ ‘সপ্তমিকা’ সম্পাদনা করেন। অরুণাচল তাঁর আমৃত্যু বন্ধু ছিলেন। মার্কসবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে সুকান্ত কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান করে নেন। সুকান্তকে বলা হয় গণমানুষের কবি। অসহায়-নিপীড়িত সর্বহারা মানুষের সুখ, দুঃখ তার কবিতার প্রধান বিষয়। অবহেলিত মানুষের অধিকার আদায়ের স্বার্থে ধনী মহাজন অত্যাচারী প্রভুদের বিরুদ্ধে নজরুলের মতো সুকান্তও ছিলেন সক্রিয়। যাবতীয় শোষণ-বঞ্চনার বিপক্ষে সুকান্তের ছিল দৃঢ় অবস্থান। তিনি তার কবিতার নিপুণ কর্মে দূর করতে চেয়েছেন শ্রেণী বৈষম্য। মানবতার জয়ের জন্য তিনি লড়াকু ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। অসুস্থতা আর অর্থাভাব তাকে কখনো দমিয়ে দেয়নি। মানুষের কল্যাণের জন্য সুকান্ত নিরন্তর নিবেদিত থেকেছেন। তিনি মানবিক চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে বিদ্রোহের ডাক দিয়েছেন। তার অগ্নিদীপ্ত সৃষ্টি প্রণোদনা দিয়ে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করতে প্রয়াসী ছিলেন। মানবিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য বাংলা কাব্যধারার প্রচলিত প্রেক্ষাপটকে আমূল বদলে দিতে পেরেছিলেন। সুকান্ত কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা দৈনিক স্বাধীনতার (১৯৪৫) ‘কিশোর সভা’ বিভাগ সম্পাদনা করতেন। মার্কসবাদী চেতনায় আস্থাশীল কবি হিসেবে সুকান্ত কবিতা লিখে বাংলা সাহিত্যে স্বতন্ত্র স্থান করে নেন। তার কবিতায় অনাচার ও বৈষ্যমের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিবাদ পাঠকদের প্রভাবিত করে তোলে। গণমানুষের প্রতি গভীর মমতায় প্রকাশ ঘটেছে তাঁর কবিতায়।

তাঁর রচনাবলির মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো:

ছাড়পত্র (১৯৪৭), পূর্বাভাস (১৯৫০), মিঠেকড়া (১৯৫১), অভিযান (১৯৫৩), ঘুম নেই (১৯৫৪), হরতাল (১৯৬২), গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫) প্রভৃতি। পরবর্তীকালে উভয় বাংলা থেকে সুকান্ত সমগ্র নামে তাঁর রচনাবলি প্রকাশিত হয়। সুকান্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী লেখক ও শিল্পিসঙ্ঘের পক্ষে আকাল (১৯৪৪) নামে একটি কাব্যগ্রন্থ সম্পাদনা করেন। সুকান্তের কবিতা বিষয়বৈচিত্র্যে ও লৈখিক দক্ষতায় অনন্য। সাধারণ বস্তুকেও সুকান্ত কবিতার বিষয় করেছেন। বাড়ির রেলিং ভাঙা সিঁড়ি উঠে এসেছে তার কবিতায়। সুকান্তের কবিতা সব ধরনের বাধা-বিপত্তিকে জয় করতে শেখায়। যাপিত জীবনের দুঃখ-যন্ত্রণাকে মোকাবেলা করার সাহস সুকান্তের কবিতা থেকে পাওয়া যায়। তারুণ্যের শক্তি দিয়ে উন্নত শিরে মানুষের মর্যাদার জন্য মানুষকে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান সুকান্তের কবিতায় লক্ষণীয়। সুকান্তের কবিতা সাহসী করে, উদ্দীপ্ত করে। তার বক্তব্যপ্রধান সাম্যবাদী রচনা মানুষকে জীবনের সন্ধান বলে দেয়। স্বল্প সময়ের জীবনে তিনি বাংলা সাহিত্যকে অনেক কিছু দিয়ে গেছেন। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, দিজেন্দ্রলাল রায়, জীবনানন্দ দাশসহ সে সময়ের বড় বড় কবির ভিড়ে তিনি হারিয়ে যাননি। নিজের যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে গেছেন নিজ প্রতিভা, মেধা ও মননে। সুকান্ত তার বয়সিক সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করেছেন তার পরিণত ভাবনায়। ভাবনাগত দিকে সুকান্ত তার বয়স থেকে অনেক বেশি এগিয়ে ছিলেন।

মাত্র ২১ বছর বয়সে বিদায় নিলেন স্বাধীনতার কিংবদন্তি কবি সুকান্ত :

একাধারে বিপ্লবী ও স্বাধীনতার আপোসহীন সংগ্রামী কবি সুকান্ত ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির সার্বক্ষণিক কর্মী। পার্টি ও সংগঠনের কাজে অত্যধিক পরিশ্রমের ফলে নিজের শরীরের উপর যে অত্যাচারটুকু তিনি করলেন তাতে তাঁর শরীরে প্রথম ম্যালেরিয়া ও পরে দুরারোগ্য ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হয়ে ১৯৪৭ সালের ১৩ই মে মাত্র ২১ বছর বয়সে কলিকাতার ১১৯ লাউডট ট্রিষ্ট্রের রেড এড কিওর হোমে মৃত্যুবরণ করেন। সুকান্ত ভট্টাচার্যের জীবন মাত্র ২১ বছরের আর লেখালেখি করেন মাত্র ৬/৭ বছর। সামান্য এই সময়ে নিজেকে মানুষের কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে গেছেন। তাঁর রচনা পরিসরের দিক থেকে স্বল্প অথচ তা ব্যাপ্তির দিক থেকে সুদূরপ্রসারী।

বিপ্লবী কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের গ্রন্থ তালিকা :

ছাড়পত্র (১৩৫৪ ব.), ছাড়পত্র, আগামী, রবীন্দ্রনাথের প্রতি, চারাগাছ, খবর, ইউরোপের উদ্দেশ্যে, প্রস্তুত, প্রার্থী, একটি মোরগের কাহিনী, সিঁড়ি, কলম, দুরাশা, মৃত্যু, আগ্নেয়গিরি, ঠিকানা, লেনিন, অনুভব, কাশ্মীর, সিগারেট, দেশলাই কাঠি, বিরতি, চিল, চট্টগ্রামঃ১৯৪৩, মধ্যবিত্ত’৪২, সেপ্টেম্বর’৪৬, ঐতিহাসিক, শত্রু এক, মজুরদের ঝড় (ল্যাংস্টন হিউজ), ডাক, বোধন, রানার, মৃত্যুজয়ী গান, কনভয়, ফসলের ডাকঃ১৩৫১, কৃষকের গান, এই নবান্নে, আঠারো বছর বয়স, হে মহাজীবন, ঘুম নেই (১৩৫৭ ব*), শুরুতেই, বিক্ষোভ, পয়লা মে-র কবিতাঃ১৯৪৬, পরিখা, সব্যসাচী, উদ্বীক্ষণ, বিদ্রোহের গান, অনন্যেপায়, অভিবাদন, জনতার মুখে ফোটে বিদ্যুৎবাণী, কবিতার খসড়া, আমরা এসেছি, একুশে নভেম্বরঃ১৯৪৬, দিন বদলের পালা, মুক্ত বীরদের প্রতি, প্রিয়তমাসু, ছুরি, সূচনা, অদ্বৈত, মণিপুর, দিকপ্রান্তে, চিরদিনের, নিভৃত (অনিশ্চিত পৃথিবীতে অরণ্যের ফুল), বৈশম্পায়ন, নিভৃত (বিষন্ন রাত প্রসন্ন দিন আনো), কবে, অলক্ষ্যে, মহাত্মাজীর প্রতি, পঁচিশে বৈশাখের উদ্দেশে, পরিশিষ্ট, মীমাংসা, অবৈধ, ১৯৪১ সাল, রোমঃ১৯৪৩, জনরব, রৌদ্রের গান, দেওয়ালী, পূর্বাভাস (১৩৫৭ ব*), পূর্বাভাস, হে পৃথিবী, সহসা, স্মারক, নিবৃত্তির পূর্বে, স্বপ্নপথ, সুতরাং, বুদ্বুদমাত্র, আলো অন্ধকার, প্রতিদ্বন্দ্বী, আমার মৃত্যুর পর, স্বতঃসিদ্ধ, মুহূর্ত (ক), মুহূর্ত (খ), তরঙ্গ ভঙ্গ, আসন্ন আঁধারে, পরিবেশন, অসহ্য দিন, উদ্যোগ, পরাভব, বিভীষণের প্রতি, ঘুম ভাঙার গানহদিশ, দেয়ালিকা, প্রথমবার্ষিকী, তারুণ্য, মৃত পৃথিবী, দূর্মর, অভিযান নাটিকা (১৩৬০ ব* ), অভিযান (১৩৫০ সাল), সূর্যপ্রনাম(১৩৪৮ সাল), বইয়ের শেষে সচিত্র মঞ্চ নির্দেশনা।

মিঠে-কড়া (১৯৫১ ইং), অতি কিশোরের ছড়া, এক যে ছিল, ভেজাল, গোপন খবর, জ্ঞানী, মেয়েদের পদবী, বিয়েবাড়ির মজা, রেশনকার্ড, খাদ্য-সমস্যার সমাধান, পুরানো ধাঁধা, ব্ল্যাক-মার্কেট, পৃথিবীর দিকে তাকাও, সিপাহী বিদ্রোহ, আজব লড়াই, হরতাল (১৩৬৯ ব*), লেজের কাহিনী (সোভিয়েট শিশুসাহিত্যিক ডি বিয়াঙ্কির ‘টেইলস’ গল্পের অনুবাদ), ষাঁড়-গাধা ছাগলের কথা, দেবতাদের ভয় (ব্যাঙ্গার্থক নাটিকা), রাখাল ছেলে, গীতিগুচ্ছ (১৯৬৫ ইং), বেশ কয়েকটি গানের সংকলন। আকাল (১৯৪৪ ইং)।

বাংলা সাহিত্যের মার্কসবাদী ও প্রগতিশীল চেতনার অধিকারী কিংবদন্তি কবি এবং বিপ্লবী কমরেড সুকান্ত ভট্টাচার্যের স্মরণে উৎসর্গ করে লেখা কবিতা—

“কবি সুকান্ত”

আজও ভোরের আকাশজোড়া ধোঁয়ার ভিতর দেখি, ক্ষুধার রাত্রি পেরিয়ে উঠে কিশোর এক বিদ্রোহী; চোখে তার দুর্ভিক্ষ-জ্বালা, কণ্ঠে বজ্রনিনাদ, শব্দে শব্দে জেগে ওঠে রক্তমাখা প্রতিবাদ। কলকাতার গলির ভিতর, বেলেঘাটার ঘরে, জন্ম নেয় যে দুরন্ত শিশু ঝড়ের অগ্নিকরে, তারই নামটি আজও শোনে বাংলার প্রতিটি পথ, সুকান্ত মানে দগ্ধ সময়, জাগ্রত জনমত।

ফরিদপুরের মাটির গন্ধ, কোটালীপাড়ার ধান, উনশিয়ার সেই সবুজে প্রথম ফুটল গান; নিবারণের সংসারজুড়ে দারিদ্র্যেরই ছাপ, তবু মায়ের কোলের ভিতর স্বপ্ন ছিল অপরাপ। শৈশব জুড়ে অনটনের দীর্ঘ ছায়া নেমে, অভাব যেন আগুন হয়ে জ্বলত রক্তপ্রেমে; ক্ষুধা কী আর বইয়ের পাতায় পড়া কোনো কথা? ক্ষুধা মানে শীতের রাতে কাঁপা মানুষের ব্যথা।

আট-নয় বছরের শিশুও যখন কলম ধরে, সময়েরই ব্যথা তখন শব্দ হয়ে ঝরে; হাতে লেখা পত্রিকাতে হাসির গল্প লেখে, আঁধার ঘরে নতুন ভোরের আভা এসে দেখে। বিবেকানন্দের জীবন নিয়ে লিখল ছোট প্রাণ, কিশোর বুকে তখন থেকেই জেগে উঠল জ্ঞান; রাখাল ছেলের গীতিনাট্য, কল্পনারই ডানা, সেই ডানাতে ভবিষ্যতের বিপ্লবের ঠিকানা।

বন্ধু ছিল অরুণাচল, স্বপ্নসাথী এক, সাহিত্য আর সংগ্রামেরই ছিল দুজনের টেক; সপ্তমিকার পাতায় পাতায় তরুণ আগুন জ্বলে, বাংলা ভাষার নতুন নদী গোপন স্রোতে চলে। সরলা বসুর স্নেহমাখা আশ্রয়েরই কোলে, মাতৃহারা শিশুর দুঃখ কিছুটা যেত ভুলে; সেইসব দিনের রোদ-বৃষ্টির ক্ষুদ্র স্মৃতির ভাঁজে, বড় হয়ে ওঠে কবি মানুষেরই কাজে।

রেডিওর সেই গল্পদাদুর ছোট্ট আসর জুড়ে, রবির কবিতা পড়ত সে কিশোর মনের সুরে; রবীন্দ্রনাথ চলে গেলে স্তব্ধ হলো দেশ, সুকান্ত তখন নিজের ভাষায় দিল শ্রদ্ধার রেশ। গানের ভিতর শ্রমিক-ঘামে উঠল নতুন ঢেউ, পঙ্কজ মল্লিক কণ্ঠে তখন সুরের আলোর ঢেউ; কবিতা নয়, গল্প-নাটক, প্রবন্ধে সমান, কৈশোরেই ছন্দ নিয়ে বিস্ময়কর জ্ঞান।

তেতাল্লিশের মন্বন্তরের কালো হাহাকার, রাস্তাজুড়ে কঙ্কাল নাচে, নিভে যায় সংসার; মায়ের কোলে মৃত শিশুর স্তব্ধ দুটো চোখ, ধানের দেশে ক্ষুধার আগুন, অনাহারের শোক। সেই দুর্ভিক্ষ বুকের ভিতর গেঁথে নিল শূল, মানুষ যদি ক্ষুধায় মরে, সভ্যতা তবে ভুল; চালের গুদাম পাহারা দেয় লোভী মহাজন, রক্ত চুষে ফুলে ওঠে শোষকেরই মন।

দ্বিতীয় সেই বিশ্বযুদ্ধ আগুন হয়ে নামে, ফ্যাসিবাদের লৌহচাকা গর্জে ওঠে থামে; ইউরোপজুড়ে মৃত্যুর মিছিল, ধ্বংসস্তূপ ঘর, মানবতার কপাল জুড়ে বারুদেরই পর। সাম্রাজ্যেরই নিষ্ঠুর নখে পিষ্ট জনপদ, ধর্ম নামে দাঙ্গার আগুন, ছিন্ন মানব-সদ্‌; সুকান্ত তখন কলম হাতে দাঁড়াল সম্মুখে, মানুষ ছাড়া সত্য কিছু নেই তার বুকমুখে।

চৌদ্দশো নয়, উনিশশো চুয়াল্লিশের কাল, কমিউনিস্ট পার্টির সাথে বাঁধল নিজের জাল; শ্রমিক-কৃষক-খেতমজুরের ঘামে লেখা গান, শোষণহীন ভবিষ্যতের জাগাল আহ্বান। আকাল নামে সংকলনের পাতায় ক্ষুধার ছবি, ক্ষুধার সাথে যুদ্ধ করে উঠল তরুণ কবি; সময়েরই রক্তাক্ত মুখ স্পষ্ট হলো তাতে, বাংলা কাব্য নতুন পথে চলল তারই সাথে।

সে তো শুধু প্রেমের কবি ছিল না কোনোদিন, তার কবিতায় ভাঙা সিঁড়ি, কারখানার দিন; দেশলাই কাঠি, সিগারেটও পেল ভাষার স্থান, সাধারণের জীবনখানা হলো মহাগান। কলম তারে বলত যেন বন্দুকেরই ভাই, অন্যায়েরই প্রাচীর ভাঙা ছাড়া গতি নাই; আঠারো বছর বয়স মানে ঝড়ের মতো প্রাণ, বুকের ভিতর বজ্র রেখে এগিয়ে যাও গান।

“হে মহাজীবন” ডাকের ভিতর তীব্র দীপ্তি জ্বলে, “রানার” যেন ছুটে চলে সময়েরই তলে; “ছাড়পত্র”-এর প্রতিটি পঙ্‌ক্তি মিছিল ডাকার ঢাক, ঘুমহীন এক পৃথিবীকে জাগিয়ে তোলার ডাক। “খবর” কবিতায় ক্ষুধার কাছে নত সভ্যতার শির, “চারাগাছ”ও শেখায় কেমন লড়তে হয় ধীর; “কৃষকের গান” মাটির গন্ধে জাগায় নতুন দেশ, তারুণ্যের হাতে তুলে দেয় আগামী পরিবেশ।

সুকান্ত মানে দুর্বার শক্তি, শাণিত প্রত্যয়, অগ্নিশিখার মতো উঠে দাঁড়াবারই জয়; মানুষ যখন ভাঙে ভিতর হতাশারই ভার, সুকান্ত তখন সামনে এসে ডাকে বারংবার। “এসো মানুষ, মাথা তোলো, পৃথিবীটা বদলাও, শ্রমিকেরই রক্তমাখা অধিকার ফিরাও; ক্ষুধার রুটি, বস্ত্র, শিক্ষা মানুষেরই চাই, বিলাসিতার সোনার প্রাসাদ টিকবে কোথাও নাই।”

তার কবিতায় মধ্যবিত্ত ভীরুতারই ক্ষয়, অন্যায়ের সাথে আপস মানে আত্মার পরাজয়; সেপ্টেম্বরের দাঙ্গা-রাতে জ্বলেছে ঘরের চাল, মানুষ কেন মানুষ মারে—তাই তো তার জ্বলাল। ধর্ম যদি রক্ত চায়, সে ধর্ম অমানব, মানুষ ছাড়া পৃথিবীতে আর নেই কোনো রব; শত্রু শুধু শোষণ-লোভ আর সাম্রাজ্যবাদ, মানুষ মানুষকে বাঁচাক—এই ছিল তার সাধ।

কলকাতার ভেজা ঘরে রাত জেগে যে লেখে, তারই ফুসফুস ক্ষয়রোগে রক্ত কাশে দেখে; ম্যালেরিয়ার জ্বরে কাঁপে দুর্বল তরুণ দেহ, তবু তারই চোখে জ্বলে সংগ্রামেরই গেহ। পার্টির কাজে, মিছিলে আর সংগঠনের টানে, নিজের জীবন ভুলে যেত মানুষেরই গানে; একুশ বছরের ক্ষুদ্র আয়ু—কত অল্প কাল, তবু তাতে যুগের চেয়ে গভীর তার জ্বলাল।

লাউডন স্ট্রিটের কক্ষে যখন নিভল শেষ নিশ্বাস, বাংলা ভাষা থমকে শুনল অদ্ভুত নীরব শ্বাস; সাতচল্লিশের মে মাস তখন স্বাধীনতার দ্বার, তার আগেই চলে গেল যে ভবিষ্যতের কারিগর। দেশ স্বাধীন হলো পরে, কিন্তু কত শৃঙ্খল, ক্ষুধা আজও মানুষেরই বুকে গেঁথে অচল; তাই তো আজও সুকান্ত এসে প্রশ্ন তোলে ক্ষণে, স্বাধীনতা কাদের জন্য এই রক্তের বনে?

আজও দেখি কৃষকেরই ফসল পুড়ে যায়, শ্রমিক ঘামে নগর গড়ে, অধিকার সে পায়? শিশুর হাতে বইয়ের বদলে ইটের বোঝা ভার, ক্ষমতারই উৎসবে আজ ক্ষুধার দীর্ঘ সার। নদী মরে, বন জ্বলে যায়, বিষে কালো ধান, যুদ্ধবাজের বাজারজুড়ে বিক্রি হয় সম্মান; ডিজিটালের উজ্জ্বলতায় ঢাকে অন্ধকার, সুকান্ত তাই আজও ভীষণ প্রয়োজনের পার।

যে কবিতা মিছিলে নামে, কারখানাতে যায়, শ্রমিকেরই ফাটা হাতে নতুন ভোরের চায়, যে কবিতা ক্ষুধার পাশে বসে কাঁদতে জানে, আবার পারে বজ্র হয়ে উঠতে সংগ্রামে; সেই কবিতার পথিক ছিলেন অগ্নিদীপ্ত প্রাণ, বাংলা কাব্য তাঁর কাছে পেয়েছে নতুন মান। রোমান্টিকের ফুলবাগান পেরিয়ে রক্তরেখা, জীবনানন্দের নীরবতা ভেঙে দিল দেখা।

রবীন্দ্রনাথ বিশ্বমানব, নজরুল বিদ্রোহী, তাদের পাশে দাঁড়িয়ে ওঠে ক্ষুধার কবি সেই; জীবনানন্দ স্বপ্নমগ্ন নক্ষত্র-রাত্রি দেন, সুকান্ত দেন জ্বলন্ত রুটি, রাস্তাঘাটের ঋণ। তাঁর ভাষাতে ধোঁয়া ওঠা চুলোর গন্ধ রয়, কারখানার সাইরেন বাজে, মজুরেরই জয়; বাংলা ভাষা তাঁর কলমে কঠিন অথচ দীপ্ত, সাম্যের স্বপ্ন আগুন হয়ে পঙ্‌ক্তি পঙ্‌ক্তি লিপ্ত।

যে বয়সে মানুষ সাধারণ প্রেমের গান লেখে, সে বয়সে সুকান্ত দেখেন কঙ্কাল পথে থেকে; যে বয়সে যুবক শুধু নিজের স্বপ্ন গড়ে, সে বয়সে তিনি ভাবেন পৃথিবী বদল করে। এই কারণেই কিশোর হয়েও তিনি মহীরুহ, স্বল্প আয়ু ছাপিয়ে গেছেন সময়েরই বহুরূপ; একুশ বছরের জীবনের চেয়ে অনেক বড়, কারণ তিনি মানুষেরই চির-অগ্নিঘর।

আজকের তরুণ, শোনো তবে সুকান্তেরই বাণী, অন্যায়েরই সামনে গিয়ে মাথা নত না মানি; কলম যদি হাতে থাকে, সত্য বলো স্পষ্ট, মিথ্যার কাছে নতজানু জীবন ভীষণ কষ্ট। শ্রমিক-কৃষক-নিপীড়িতের পাশে দাঁড়াও দৃঢ়, মানুষ ছাড়া কোনো মতই শেষ পর্যন্ত স্থির? সাম্প্রদায়ের বিষবাষ্পে ভরছে যখন দেশ, মানবতার লাল পতাকা তুলো অবশেষ।

কবিতা শুধু অলংকারের মসৃণ খেলা নয়, কবিতা মানে মানুষ জাগার দুর্জয় প্রত্যয়; কবিতা মানে কারখানাতে হাতুড়িরই গান, কবিতা মানে ক্ষুধার রুটির ন্যায্য অধিকার। কবিতা মানে বিদ্রোহী এক সাহসী উচ্চারণ, কবিতা মানে দাসত্বভাঙা দুর্বার অঙ্গীকার; এই কথাটি রক্ত দিয়ে লিখে গেছেন যিনি, সুকান্ত নাম জ্বলবে ততদিন পৃথিবী যতদিনই।

আজ মৃত্যুদিনে নতশিরে স্মরণ করি তাকে, বাংলা ভাষার আগুন-শিশু, দুঃসময়ের ডাকে; শ্রমিকেরই ঘামে ভেজা পৃথিবীর সন্তান, সাম্যের স্বপ্ন বুকে নিয়ে যিনি হলেন দান। তাঁর কবিতা ভোরের মতো অন্ধকারে জ্বলে, পরাজিতের মুখে এনে প্রতিরোধের বল; তাঁর কবিতা শেখায় কেমন মাথা তুলে বাঁচি, শোষণহীন মানবধর্মে গড়ি নতুন আঁচি।

কার্ল মার্কসের উচ্চারণে যে আহ্বানের ধ্বনি, “জগত শুধু ব্যাখ্যা নয়, বদলাতে হবে”—শুনি; সেই আহ্বান কিশোর কবি রক্তে নিল বয়ে, ক্ষুধার দেশে মানুষেরই মুক্তির গান কয়ে। তাই তো তিনি কেবল নন সাহিত্যিকের নাম, তিনি এক সংগ্রামশিখা, বিপ্লবেরই ধাম; বাংলা কাব্যধারার বুকে অনির্বাণ দীপ, সুকান্ত মানে আগামীদিন, রক্তমাখা নীড়।

যতদিন এই পৃথিবীতে ক্ষুধার আগুন জ্বলে, যতদিন শ্রমিকের রক্ত ঝরে কলকারখানাতে চলে, যতদিন ধর্মের নামে ছুরি ওঠে হাতে, যতদিন লোভী মানুষ শোষণ গাঁথে রাতে, ততদিনই সুকান্ত ফিরে আসবেন মিছিলে, তরুণ কণ্ঠ জেগে উঠবে বজ্রের কাব্যশিলে; ততদিনই বাংলাভাষা আগুন হয়ে কয়— মানুষেরই মুক্তির লড়াই শেষ হয়নি এখনও হয়।

হে অগ্নিকবি, তোমার প্রতি রইল লাল সালাম, মানুষ জাগার প্রত্যয়ে আজ উচ্চারিত নাম; তোমার লেখা পথ দেখাক আগামী প্রজন্মে, মানবতার সূর্য উঠুক নতুন ইতিহাসে। ক্ষুধাহীন এক পৃথিবীর স্বপ্ন থাকুক জেগে, শোষণহীন সমাজগাথা উঠুক মানুষের বেগে; তোমার মতো সাহস নিয়ে বলুক নতুন কাল— মানুষই শেষ সত্য, মানুষই মহাকাল।
—(কবি সুকান্ত,—সৈয়দ আমিরুজ্জামান)

এবার শেষ করছি, মার্কসবাদী ও প্রগতিশীল চেতনার কিংবদন্তি কবি এবং বিপ্লবী কমরেড সুকান্ত ভট্টাচার্যের আরেকটি কবিতা দিয়ে।

লেনিন
– সুকান্ত ভট্টাচার্য

লেনিন ভেঙেছে রুশে জনস্রোতে অন্যায়ের বাঁধ,
অন্যায়ের মুখোমুখি লেনিন প্রথম প্রতিবাদ।
আজকেও রুশিয়ার গ্রামে ও নগরে
হাজার লেনিন যুদ্ধ করে,
মুক্তির সীমান্ত ঘিরে বিস্তীর্ণ প্রান্তরে।
বিদ্যুৎ-ইশারা চোখে, আজকেও অযুত লেনিন
ক্রমশ সংক্ষিপ্ত করে বিশ্বব্যাপী প্রতীক্ষিত দিন,
বিপর্যস্ত ধনতন্ত্র, কণ্ঠরুদ্ধ, বুকে আর্তনাদ;
– আসে শত্রুজয়ের সংবাদ।

সযত্ন মুখোশধরী ধনিকেরও বন্ধ আস্ফালন,
কাঁপে হৃৎযন্ত্র তার, চোখে মুখে চিহ্নিত মরণ।
বিপ্লব হয়েছে শুরু, পদানত জনতার ব্যগ্র গাত্রোত্থানে,
দেশে দেশে বিস্ফোরণ অতর্কিতে অগ্ন্যুৎপাত হানে।
দিকে দিকে কোণে কোণে লেনিনের পদধ্বনি
আজো যায় শোনা,
দলিত হাজার কণ্ঠে বিপ্লবের আজো সম্বর্ধনা।
পৃথিবীর প্রতি ঘরে ঘরে,
লেনিন সমৃদ্ধ হয় সম্ভাবিত উর্বর জঠরে।
আশ্চর্য উদ্দাম বেগে বিপ্লবের প্রত্যেক আকাশে
লেনিনের সূর্যদীপ্তি রক্তের তরঙ্গে ভেসে আসে;
ইতালী, জার্মান, জাপান, ইংলন্ড, আমেরিকা, চীন,
যেখানে মুক্তির যুদ্ধ সেখানেই কমরেড লেনিন।
অন্ধকার ভারতবর্ষ: বুভুক্ষায় পথে মৃতদেহ
অনৈক্যের চোরাবালি; পরস্পর অযথা সন্দেহ;
দরজায় চিহ্নিত নিত্য শত্রুর উদ্ধত পদাঘাত,
অদৃষ্ট র্ভৎসনা-ক্লান্ত কাটে দিন, বিমর্ষ রাত
বিদেশী শৃঙ্খলে পিষ্ট, শ্বাস তার ক্রমাগত ক্ষীণ-
এখানেও আয়োজন পূর্ণ করে নিঃশব্দে লেনিন।
লেনিন ভেঙেছে বিশ্বে জনস্রোতে অন্যায়ের বাঁধ,
অন্যায়ের মুখোমুখি লেনিন জানায় প্রতিবাদ।
মৃত্যুর সমুদ্র শেষ; পালে লাগে উদ্দাম বাতাস
মুক্তির শ্যামল তীর চোখে পড়ে, আন্দোলিত ঘাস।
লেনিন ভুমিষ্ঠ রক্তে, ক্লীবতার কাছে নেই ঋণ,
বিপ্লব স্পন্দিত বুকে, মনে হয় আমিই লেনিন।।

পরিশেষে, শ্রমিক শ্রেণির রাজনৈতিক চিন্তা ও মতাদর্শের তাত্ত্বিক বিশ্লেষক ও প্রবক্তা মহান দার্শনিক ও সমাজবিজ্ঞানী কার্ল মার্কসের গুরুত্বপূর্ণ ও পৃথিবী বিখ্যাত উক্তি দিয়ে শেষ করছি। তিনি বলেছিলেন, “দার্শনিকরা জগতটাকে শুধু বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যাই করে গেলেন, মূল কাজ হচ্ছে বদলে ফেলা।” কিংবদন্তি কবি ও বিপ্লবী কমরেড সুকান্ত ভট্টাচার্য সেই কাজটাই করে গেছেন। ৭৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁর বিনম্র শ্রদ্ধা ও অভিবাদন!।

#
সৈয়দ আমিরুজ্জামান
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট;
বিশেষ প্রতিনিধি, দ্য ফিনান্সিয়াল পোস্ট (ইংরেজি দৈনিক) ও সাপ্তাহিক নতুনকথা;
সম্পাদক, আরপি নিউজ;
কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, জাতীয় কৃষক সমিতি;
‘৯০-এর মহান গণঅভ্যুত্থানের সংগঠক ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রমৈত্রী।
সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ খেতমজুর ইউনিয়ন।
সাধারণ সম্পাদক, মাগুরছড়ার গ্যাস সম্পদ ও পরিবেশ ধ্বংসের ক্ষতিপূরণ আদায় জাতীয় কমিটি।
প্রাক্তন সভাপতি, বাংলাদেশ আইন ছাত্র ফেডারেশন।
E-mail : syedzaman.62@gmail.com
WhatsApp : 01716599589
মুঠোফোন: ০১৭১৬৫৯৯৫৮৯

ShareTweetPin

সর্বশেষ সংবাদ

  • আগামী বছর এসএসসি পরীক্ষা জানুয়ারির শেষে এবং এইচএসসি জুনে: শিক্ষামন্ত্রী
  • চারদিন পর গাজীপুর থেকে উদ্ধার বাউফলের নিখোঁজ চার কিশোরী
  • সালথায় লিচু খেয়ে টাকা পরিশোধ নিয়ে মারামারি: লিচু বিক্রেতা নিহত
  • রাজশাহীতে র‍্যাব-৫ যৌথ অভিযানে অপহৃত কিশোরী উদ্ধার
  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযান: ৪টি ভারতীয় গরু জব্দ

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুর ইসলাম (রাশেদ মানিক)
নির্বাহী সম্পাদক: মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ

বাংলা এফ এম , বাসা-১৬৪/১, রাস্তা-৩, মোহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ

ফোন:  +৮৮ ০১৯১৩-৪০৯৬১৬
ইমেইল: banglafm@bangla.fm

  • Disclaimer
  • Privacy
  • Advertisement
  • Contact us

© ২০২৬ বাংলা এফ এম

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • প্রবাস
  • ভিডিও
  • কলাম
  • অর্থনীতি
  • লাইফস্টাইল
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • চাকুরি
  • অপরাধ
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • ফটোগ্যালারি
  • ফিচার
  • মতামত
  • শিল্প-সাহিত্য
  • সম্পাদকীয়

© ২০২৬ বাংলা এফ এম