মুহাম্মদ মহসিন আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ভারত সীমান্ত ঘেঁষা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিষিদ্ধ পিরানহা মাছের অবাধ বিক্রি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এই মাছ প্রকাশ্যেই বিক্রি হওয়ায় জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার চম্পকনগর বাজার, আউলিয়া বাজার, সিঙ্গারবিল বাজার ও আমতলী বাজারে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিয়মিতভাবে পিরানহা মাছ বিক্রি করছেন। এসব মাছ সাধারণ ক্রেতাদের কাছে অন্য মাছের সঙ্গে মিশিয়ে বা ভিন্ন নামে বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জানা যায়, পিরানহা মাছ মূলত দক্ষিণ আমেরিকার একটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক প্রজাতি, যা বাংলাদেশে চাষ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ আইনত নিষিদ্ধ। মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মাছ দেশের জলজ পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং মানুষের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা আখাউড়া মাছের আড়ৎ, সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর মাছের আড়ৎ এবং হবিগঞ্জের মাধবপুর মাছের আড়ৎ থেকে এসব নিষিদ্ধ মাছ সংগ্রহ করেন।
সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় অবৈধভাবে এসব মাছ দেশে প্রবেশ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ক্রেতা বলেন, “অনেক সময় আমরা বুঝতেই পারি না কোনটা পিরানহা মাছ। বিক্রেতারা অন্য মাছ বলে চালিয়ে দেয়।”
এ বিষয়ে বিজয়নগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, “পিরানহা মাছ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। খুব শিগগিরই বাজারগুলোতে অভিযান চালানো হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একইসঙ্গে সচেতনতার অভাবে অনেক ক্রেতা প্রতারিত হচ্ছেন বলেও মনে করছেন তারা।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরকার ২০০৮ সাল থেকেই পিরানহা মাছের চাষ ও বিপণন নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবুও বিভিন্ন এলাকায় গোপনে এই মাছের বিস্তার ঘটছে, যা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।

