মোঃ মাহফুজুর রহমান মাসুম, উজিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি :
বরিশালের উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক্স-রে বিভাগে চরম ঝুঁকি ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত ঘোষিত ভবনে এক্স-রে সেবা চালু থাকায় রোগী, স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, ১৯৮৩ সালে নির্মিত পুরাতন ভবনের একটি কক্ষে এখনো এক্স-রে বিভাগের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য অধিকাংশ বিভাগ নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হলেও রহস্যজনক কারণে এক্স-রে বিভাগটি এখনো পুরাতন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই রয়ে গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এক্স-রে রুমটির ছাদের প্লাস্টার বিভিন্ন স্থানে খসে পড়েছে এবং কিছু অংশ ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। এতে যেকোনো সময় ছাদের অংশ ভেঙে পড়ে রোগী বা স্বাস্থ্যকর্মীরা হতাহতের শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ফিল্ম ডেভেলপমেন্ট রুমের দেয়াল ক্ষয়ে গিয়ে সেখানে আলো প্রবেশ করছে, যা সংবেদনশীল কার্যক্রমে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। রুমের ভেতরে ভেজা ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ বিরাজ করায় এটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এক্স-রে বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ও টেকনিশিয়ানরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। যেকোনো সময় ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ে রোগী কিংবা আমাদের গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিভাগ এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে পরিচালিত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত এক্স-রে বিভাগ নতুন ভবনে স্থানান্তর ও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একাধিক মেডিকেল অফিসার বলেন
যে ভবনে এক্স-রে রুমটি রয়েছে, সেটি মূলত পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এখনো নতুন ভবনে বিভাগটি স্থানান্তর করা হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মাইদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমার জানা আছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ ও এক্স-রে বিভাগ নতুন ভবনে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্যসেবার মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

