সত্যজিৎ দাস, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গরু ব্যবসায়ী আবিদ আলী হত্যা মামলার দ্বিতীয় আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই পলাতক এ আসামিকে আটক করা হয়।
সোমবার (১১ মে) সকালে র্যাব-৯,সিপিসি-২ শ্রীমঙ্গলের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়নের লাখাইছড়া চা বাগান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভুট্টু সাওতাল (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে। তিনি ফুসকুড়ি চা বাগান এলাকার মৃত ধরনী সাওতালের ছেলে।
র্যাব জানায়,নিহত আবিদ আলী শ্রীমঙ্গল উপজেলার ঘাটিবস্তি বটেরতল এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। গত ৭ মে সন্ধ্যায় গরু কেনার উদ্দেশ্যে নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরে স্থানীয় এক ব্যক্তি আবিদের পরিবারের সদস্যদের জানান,গ্রেফতারকৃত দুই আসামি আবিদ আলীকে গরু দেখানোর কথা বলে চা বাগানের ভেতরে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এ ঘটনায় আবিদের স্ত্রী শ্রীমঙ্গল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
এর দুই দিন পর,গত ৯ মে দুপুরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা রাজঘাট এলাকার ফুসকুড়ি চা বাগানের একটি পানির ডোবা থেকে আবিদ আলীর মরদেহ উদ্ধার করেন এবং তা শনাক্ত করেন।
পরিবারের অভিযোগ,গরু কেনার জন্য সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ছিনতাই করে তাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে পানির ডোবায় ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি রুজুর পর র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
র্যাব আরও জানায়,এ মামলার প্রধান আসামিকে গত ১০ মে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সর্বশেষ গ্রেফতার হওয়া ভুট্টু সাওতালকে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য শ্রীমঙ্গল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

