সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে গরু ব্যবসায়ীকে হত্যা করে লাশ গুমের ঘটনায় এজাহারভুক্ত এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামি হলেন পরেস নায়েক (৫০)। তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুসকুড়ি চা বাগান এলাকার মৃত পুতুল নায়েকের ছেলে।
রোববার (১০ মে) সন্ধ্যায় র্যাব-৯,সিপিসি-২ শ্রীমঙ্গলের একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়নের বালিশিরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৯ সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
র্যাব জানায়,নিহত আবিদ আলী শ্রীমঙ্গল উপজেলার ঘাটিবস্তি বটেরতল এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় গরু ব্যবসায়ী ছিলেন। গত ৭ মে সন্ধ্যায় গরু কেনার উদ্দেশ্যে নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরে পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে জানতে পারেন,পরেস নায়েক ও ভুট্টু সাওতাল নামের দুই ব্যক্তি আবিদ আলীকে গরু দেখানোর কথা বলে চা বাগানের ভেতরে নিয়ে গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় আবিদ আলীর স্ত্রী শ্রীমঙ্গল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
এরপর গত ৯ মে দুপুরে স্থানীয় এক মেম্বারের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা রাজঘাট এলাকার ফুসকুড়ি চা বাগানের একটি পানির ডোবা থেকে ভাসমান লাশ উদ্ধার করেন। পরে সেটি আবিদ আলীর মরদেহ বলে শনাক্ত করা হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ,গরু কেনার জন্য সঙ্গে থাকা ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিতে তাকে হত্যা করা হয় এবং পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পানির ডোবায় ফেলে রাখা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়। এরই ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি পরেস নায়েককে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের জন্য শ্রীমঙ্গল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাবের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

