দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লক্ষ্য করে একদিনে অন্তত ২৪টি হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। মূলত ইসরায়েল কর্তৃক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এই পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে গোষ্ঠীটি দাবি করেছে।
সোমবার (১১ মে) হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা ইসরায়েলি সেনাসমাবেশ, মেরকাভা ট্যাংক, বুলডোজার এবং সীমান্ত এলাকায় নতুন স্থাপিত সামরিক কমান্ড সেন্টারগুলো লক্ষ্য করে এই অভিযান চালিয়েছে। খিয়াম, নাকোরা এবং তায়র হারফাসহ বেশ কিছু এলাকায় ড্রোন, রকেট, কামানের গোলা এবং গাইডেড মিসাইল ব্যবহার করে এই হামলাগুলো চালানো হয়। হিজবুল্লাহর দাবি, তাদের প্রতিটি আক্রমণ লক্ষ্যবস্তুতে সুনিশ্চিতভাবে আঘাত হেনেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হিজবুল্লাহর ড্রোন অনুপ্রবেশের খবরের পর ইসরায়েলের আপার গ্যালিলি অঞ্চলে দীর্ঘ সময় ধরে বিমান হামলার সাইরেন বাজানো হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী একটি সন্দেহভাজন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে এবং একে যুদ্ধবিরতি সমঝোতার স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
গত ১৭ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সীমান্ত পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের অভ্যন্তরে নিয়মিত বিমান হামলা চালাচ্ছে, আর পাল্টা জবাব দিচ্ছে হিজবুল্লাহও। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে এখন পর্যন্ত ২,৮৪৬ জন নিহত এবং ৮,৬৯৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ।
সীমান্তের এই ভয়াবহ উত্তেজনার মধ্যেই আগামী ১৪ ও ১৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে দুই দেশের মধ্যে শান্তি আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল এই আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের আশা করলেও, বর্তমান পাল্টাপাল্টি হামলা সেই সম্ভাবনাকে জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

