আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রথম ধাপের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। রোববার সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং পৌরসভার মেয়র পদের জন্য ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান সারজিস আলম এবং দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে এনসিপি প্রথাগত রাজনীতির বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছেন সারজিস আলম। এবারের তালিকায় যে ধরণের প্রার্থীদের স্থান দেওয়া হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াত ইসলামী থেকে আসা যোগ্য এবং গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
৫-৭ বছর আগে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও যারা পরবর্তীতে দলটির বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে জুলাই আন্দোলনের (২০২৪) পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন, তাদেরও তালিকায় স্থান দেওয়া হয়েছে।
এমন অনেক প্রার্থী রয়েছেন যারা এর আগে কখনো কোনো ধরণের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
নির্বাচনী জোটের বিষয়ে সারজিস আলম স্পষ্টভাবে জানান, এনসিপি আপাতত এককভাবেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। যদিও তারা জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের অংশ, তবে সব উপজেলায় জোটগতভাবে একক প্রার্থী নিশ্চিত করা সাংগঠনিকভাবে বেশ জটিল। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে জোটবদ্ধ প্রার্থীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের একটি পূর্ণাঙ্গ সময়রেখা (Timeline) প্রকাশ করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানা থাকলে প্রার্থীদের প্রস্তুতি এবং নির্বাচনী প্রচারণা চালানো সহজ হবে।
এনসিপি তাদের প্রথম ধাপেই ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে স্থানীয় পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তিমত্তার পরিচয় দিতে চাইছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ ও আখতার হোসেনসহ শীর্ষ নেতাদের জয়ের পর এই স্থানীয় নির্বাচন এনসিপির জন্য তৃণমূল পর্যায়ে ভিত্তি শক্ত করার একটি বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।

