জাহাঙ্গীর আলম, মির্জাপুর, টাঙ্গাইল, প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় আবারও কথিত ভুল চিকিৎসার অভিযোগে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। নিহত গৃহবধূ আঁখি আক্তার (৩০) দুই কন্যাসন্তানের জননী ছিলেন। তিনি উপজেলার উয়ার্শী ইউনিয়নের খৈলসিন্দুর গ্রামের বাসিন্দা ও আলিমুদ্দিনের স্ত্রী।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল রাত প্রায় ৯টার দিকে হঠাৎ তীব্র পেটব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন আঁখি আক্তার। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত মির্জাপুর সদরের একটি নতুন বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করেন। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই কর্তব্যরত চিকিৎসক তড়িঘড়ি করে তার অপারেশন সম্পন্ন করেন।
স্বজনদের দাবি, অপারেশনের পর থেকেই আঁখির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। সারারাত পার হলেও তার জ্ঞান ফেরেনি। অবস্থার অবনতি দেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরে তাকে ঢাকায় রেফার করে। তবে ঢাকায় নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান। ঢাকার হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকদের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই অকালেই প্রাণ হারাতে হয়েছে আঁখি আক্তারকে। তাদের দাবি, সঠিকভাবে রোগ নির্ণয় ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হলে হয়তো এই মৃত্যুর ঘটনা এড়ানো সম্ভব হতো। এ ঘটনায় দুই শিশু কন্যা মাকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অনেকেই দায়ীদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অভিযুক্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য জানা যায়নি।
এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, উপজেলায় গড়ে ওঠা বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের চিকিৎসাসেবার মান এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

