নাজমুল হোসেন, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে একাধিক সরকারি দপ্তর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পূর্ণাঙ্গ কর্মকর্তা না থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ সময়মতো কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।
জানা যায়, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শূন্য রয়েছে। বর্তমানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ খাদিজা বেগম অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
একইভাবে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার পদটি ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর থেকে শূন্য রয়েছে। বর্তমানে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আবু বেলাল ছিদ্দিক অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, “রাণীশংকৈলে স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ হলে দায়িত্বের চাপ অনেকটাই কমবে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার পদটি ২০২৪ সালের মে মাস থেকে শূন্য। বর্তমানে সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল জলিল ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার বলেন, “মন্ত্রণালয় থেকে কর্মকর্তা নিয়োগ হলেই পদটি পূরণ করা হবে।
অন্যদিকে উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তার পদটি ২০২৪ সালের মার্চ থেকে শূন্য রয়েছে। বর্তমানে সহকারী পরিসংখ্যান কর্মকর্তা আবু মোহাম্মদ মুক্তাদির হোসেন ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া উপজেলা পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা মামুন অর রশিদ পদোন্নতিজনিত কারণে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বদলি হলে পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে সহকারী কর্মকর্তা আনোয়ারা বেগম ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন বিভাগের জেলা উপ-পরিচালক আব্দুল বাছেদ বলেন, “বর্তমানে যিনি দায়িত্বে আছেন, তিনিই পূর্ণাঙ্গভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এদিকে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগে গত ২০ এপ্রিল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরনবী সরকারকে বদলি করা হলে পদটি এখনো শূন্য রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদটিও শূন্য রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তোবারক হোসেন অবসরে যাওয়ার পর থেকে সহকারী মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বেলাল উদ্দীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন।
ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহীন আক্তার বলেন, “খুব শিগগিরই ভারপ্রাপ্ত পদগুলো পূরণ করা হবে। জেলার চারটি উপজেলায় বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রয়েছেন। আশা করছি দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে।
রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগম মঙ্গলবার (৫ মে) বলেন, “পূর্ণাঙ্গ কর্মকর্তা থাকলে দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হয় এবং সাধারণ মানুষও সময়মতো সেবা পায়। সব দপ্তরে কর্মকর্তা থাকলে উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম ও সেবার মান আরও উন্নত রাখা সম্ভব। বিশেষ করে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।

