মুহাম্মদ মহসিন আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের পাথারিয়াদ্বার সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে। এতে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি তরুণ আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন— গোপীনাথপুর ইউনিয়নের ধজনগর (বাতেনবাড়ি) গ্রামের হেবজু মিয়ার ছেলে মোরছালিন (এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী, গোপীনাথপুর শাহআলম ডিগ্রি কলেজ) এবং মধুপুর গ্রামের নবীর হোসেন (৪০)। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত দুইজনের মরদেহ ভারতের আগরতলার জিবি হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার রাতে কয়েকজন চোরাকারবারী মোরছালিনকে বাড়ি থেকে ডেকে সীমান্ত এলাকায় নিয়ে যায়। একই সময়ে নবীর হোসেনসহ আরও কয়েকজন ওই এলাকায় উপস্থিত হন। এ সময় বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মোরছালিন নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় নবীর হোসেনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় নেওয়া হয়েছে।
নিহত নবীর হোসেনের ছেলে মো. তপন জানান, তার বাবা সন্ধ্যার পর থেকে বাড়িতে ছিলেন না। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পারেন, সীমান্ত এলাকায় যাওয়ার পর বিএসএফের গুলিতে তিনি নিহত হয়েছেন।
ধজনগর গ্রামের বাসিন্দা রিপন পাঠান জানান, রাতের দিকে ২০-২৫ জনের একটি দল সীমান্তের কাটাতারের কাছে গেলে বিএসএফ গুলি চালায়। এতে মোরছালিন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান এবং বাকিরা আহত হয়ে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে চন্ডিদ্বার বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মো. মুইনুদ্দিন বলেন, একজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে এবং বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, বিএসএফের গুলিতে একজন নিহত হওয়ার প্রাথমিক তথ্য পেয়েছি। বিস্তারিত জানতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

