ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এক বড় কূটনৈতিক সাফল্যের দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের ‘বিজয় দিবস’ (৯ মে) উপলক্ষে টানা তিন দিনের এক সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (৮ মে ২০২৬) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, শনিবার থেকে সোমবার (৯, ১০ ও ১১ মে) পর্যন্ত এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয় পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান যে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই সমঝোতা সম্ভব হয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্টের সহকারী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, ট্রাম্প ও পুতিনের ফোনালাপের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। কিয়েভের সঙ্গেও মার্কিন প্রতিনিধিরা সমান্তরালভাবে যোগাযোগ রেখেছিলেন।
ট্রাম্পের এই যুদ্ধবিরতি কেবল গোলাগুলি বন্ধের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এই ৩ দিনে দুই দেশ বড় আকারের মানবিক পদক্ষেপ নিতে রাজি হয়েছে:
যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে উভয় দেশ এক হাজার করে (মোট ২,০০০) যুদ্ধবন্দি বিনিময় করবে। রাশিয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই ‘ভিক্টরি ডে’ উদযাপনের সুযোগ দিতেই ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এই অনুরোধ করেছিলেন বলে জানান।
এই যুদ্ধবিরতিকে ট্রাম্প যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তির ‘সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শান্তি আলোচনা এগিয়ে নিতে ইউক্রেনের প্রধান আলোচক রুস্তেম উমেরভ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অবস্থান করছেন। সেখানে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে চুক্তির চূড়ান্ত রূপরেখা নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।
নির্বাচনী প্রচারণায় ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিলেও ট্রাম্পের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে যুদ্ধের মূল কেন্দ্রবিন্দু দোনেৎস্ক অঞ্চল।
দোনেৎস্কের অবশিষ্ট অংশ থেকে ইউক্রেনীয় সেনা প্রত্যাহার। জেলেনস্কি বারবারই ভূখণ্ড ছেড়ে দিয়ে কোনো শান্তিচুক্তি করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই তিন দিনের যুদ্ধবিরতি বড় কোনো চুক্তির ভিত্তিপ্রস্তর হতে পারে। তবে দোনেৎস্ক ও ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে জটিলতা রয়েছে, তা নিরসন করা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য আগামী দিনগুলোতে অ্যাসিড টেস্ট হবে।

