মধ্যপ্রাচ্যে চলমান দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘাতের অবসানে এক ঐতিহাসিক মোড় নিতে যাচ্ছে বিশ্ব রাজনীতি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে দুই পক্ষ একটি এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত পাকিস্তানের একটি উচ্চপদস্থ সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এর আগে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’ এই শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। পাকিস্তানি সূত্রটি সেই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে:
উভয় দেশ একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু কার্যকর সমঝোতা স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত করেছে। যুদ্ধ অবসানে দুই দেশ এখন আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই সমঝোতা স্বাক্ষরিত হলে গত কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও বৈশ্বিক অস্থিরতা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গতকালই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য চুক্তির অগ্রগতি বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তানি সূত্রের এই নতুন দাবি ট্রাম্পের সেই বক্তব্যেরই একটি জোরালো প্রতিফলন বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
যদি এই এক পৃষ্ঠার সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবে রূপ পায়, তবে এর প্রভাব হবে সুদূরপ্রসারী: বিশ্ববাজারে তেলের দাম নাটকীয়ভাবে কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে (ইতিমধ্যে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে)।
মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি যুদ্ধের ঝুঁকি হ্রাস পাবে। বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন ও পণ্য পরিবহনের খরচ কমবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতা স্মারকটি মাত্র এক পৃষ্ঠার হওয়া ইঙ্গিত দেয় যে, এটি বিস্তারিত কোনো দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি নয়, বরং তাৎক্ষণিক যুদ্ধ বিরতি এবং ভবিষ্যতে একটি বড় আলোচনার ক্ষেত্র তৈরির প্রাথমিক ভিত্তি।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংঘাতের অবসান পুরো বিশ্বের জন্য স্বস্তির সংবাদ হতে পারে। তবে এই সমঝোতা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখবে কি না, তা নির্ভর করছে উভয় দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তাদের সমর্থনের ওপর।

