মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি নাটকীয় মোড় নিয়েছে বিশ্ব রাজনীতি। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা দেওয়ার লক্ষ্যে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অভিযান ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (৫ মে) ইরানের সাথে একটি সম্ভাব্য চুক্তির অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি এই ঘোষণা দেন।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, ইরানের সাথে একটি পারস্পরিক সমঝোতা বা চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই আলোচনাকে সফল করতে এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অল্প সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হচ্ছে। হোয়াইট হাউস থেকে বিস্তারিত না জানানো হলেও ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে সংঘাত কমানোর একটি বড় চেষ্টা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে: তেলের দাম মার্কিন অপরিশোধিত তেলের ফিউচার (WTI) ব্যারেলপ্রতি প্রায় ২.৩০ ডলার কমেছে। তেলের দাম পুনরায় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা অস্থিরতার পর বড় স্বস্তি।
মজার বিষয় হলো, ট্রাম্পের এই স্থগিতাদেশের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই প্রকল্পের রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন। সোমবার শুরু হওয়া ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’-এর মূল লক্ষ্য ছিল উপসাগরে আটকে পড়া তেলবাহী জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনা। রুবিও কড়া ভাষায় জানিয়েছিলেন যে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে না। তবে প্রেসিডেন্টের নতুন সিদ্ধান্তে এখন সেই সামরিক তৎপরতায় সাময়িক বিরতি এল।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ। সাম্প্রতিক সংঘাতের ফলে এখানে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। ইরান মাইন, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দর অবরোধ এবং বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছিল।
সামরিক শক্তির বিপরীতে ট্রাম্পের এই ‘কূটনৈতিক তাস’ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। তেলের দাম কমায় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সাময়িক স্বস্তি এলেও ইরানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

