মিজানুর, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাইমা রহমানকে নিয়ে মানহানিকর পোস্ট প্রচারের অভিযোগে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (৩০ এপ্রিল) রাতে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার পক্ষ থেকে নাগেশ্বরী থানায় এ জিডি করা হয়।
জিডি সূত্রে জানা যায়, একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফেসবুকের একটি আইডি থেকে জাইমা রহমানের একটি ছবি বিকৃত করে পোস্ট করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, ছবিটি কুরুচিপূর্ণভাবে সম্পাদনা করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্মানহানি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের কুড়ানি পাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাসেল মামুন (৩২)-কে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তের ব্যবহৃত ফেসবুক আইডির একটি নির্দিষ্ট লিংকও প্রমাণ হিসেবে জিডিতে সংযুক্ত করা হয়েছে।
জিডির বাদী ও নাগেশ্বরী পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক বলেন, বিবাদী উদ্দেশ্যমূলকভাবে আমাদের নেতার কন্যার ছবি বিকৃত করে মানহানিকরভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছে। এটি বিএনপি ও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মান ক্ষুণ্ণ করার অপপ্রয়াস। নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা সাধারণ ডায়েরি করেছি।
নাগেশ্বরী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম রসুল রাজা বলেন, পোস্টটি দেখার পর দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে আমরা অভিযুক্ত ব্যক্তির বিষয়ে খোঁজ নিই এবং স্থানীয়ভাবে যোগাযোগের চেষ্টা করি।
তিনি আরও বলেন, যদি সংশ্লিষ্টরা সাংগঠনিকভাবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, তাহলে আমরা বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার চিন্তা করবো। অন্যথায় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, জাইমা রহমানকে নিয়ে অশালীন মন্তব্য কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল মান্নান মিঞার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ হিল জামান জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি সাইবার অপরাধের আওতায় পড়ে কিনা তা যাচাই করা হচ্ছে।
অভিযুক্ত রাসেল মামুন দাবি করেন, তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নন। ফেসবুক থেকে সংগৃহীত একটি ছবি তিনি পোস্ট করেছিলেন। তবে পোস্টটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। এদিকে, মানহানির অভিযোগ ওঠার পর তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে পোস্টটি মুছে ফেলেন এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের পোস্ট করবেন না বলে জানান তিনি।

