মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে এবার প্রথমবারের মতো এই অঞ্চলে হাইপারসনিক মিসাইল মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। পেন্টাগন সূত্রে জানা গেছে, আমেরিকান সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) তাদের নবনির্মিত ‘লং রেঞ্জ ডার্ক ঈগল’ হাইপারসনিক মিসাইল মোতায়েনের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাইপারসনিক প্রযুক্তির প্রতিযোগিতায় চীন, রাশিয়া বা ইরানের তুলনায় পিছিয়ে থাকা আমেরিকা তাদের এই নতুন অস্ত্রটির সক্ষমতা যাচাই করতে মুখিয়ে আছে। এই ডার্ক ঈগল মিসাইলের পাল্লা প্রায় ২৭০০ কিলোমিটারের বেশি এবং এর গতি শব্দের চেয়ে পাঁচ গুণ (ম্যাক ৫)। প্রতিটি মিসাইল তৈরিতে আমেরিকার খরচ হচ্ছে প্রায় ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
বর্তমানে আমেরিকার হাতে মাত্র ৮টি ডার্ক ঈগল মিসাইল রয়েছে এবং আবেদন অনুমোদিত হলে ইরানকে লক্ষ্য করেই এই সীমিত সংখ্যক উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা করতে চায় ওয়াশিংটন। মূলত ইরানের প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল লঞ্চারগুলো দেশটির মূল ভূখণ্ডের অনেক গভীরে সরিয়ে নেওয়ায়, সেগুলোর নাগাল পেতেই এই লং রেঞ্জ হাইপারসনিক অস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছে মার্কিন কমান্ড।
অন্যদিকে, ইরানের হাতে থাকা হাইপারসনিক মিসাইল প্রযুক্তি ইতিমধ্যেই যুদ্ধক্ষেত্রে পরীক্ষিত। রাশিয়ার কারিগরি সহায়তা ও নিজস্ব উদ্ভাবনী ক্ষমতায় ইরান বর্তমানে ফাতাহ-১ এবং ফাতাহ-২ এর মতো অত্যাধুনিক মিসাইল পরিচালনা করছে। ফাতাহ-২ মিসাইলের গতি ম্যাক ১৩ থেকে ১৫ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম, যা আমেরিকার ডার্ক ঈগলের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দ্রুত। এর পাল্লা ১৪০০ থেকে ২৪০০ কিলোমিটারের মধ্যে এবং এটি দুই স্তরের জ্বালানি ব্যবস্থা (কঠিন ও তরল) ব্যবহার করে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো খরচের ব্যবধান; আমেরিকার একটি মিসাইল বানাতে যেখানে ১৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়, সেখানে ইরানের ফাতাহ-১ তৈরিতে খরচ হয় মাত্র ২ লাখ ডলার এবং ফাতাহ-২ এর ক্ষেত্রে ১ থেকে ৪ লাখ ডলার। ইরানের দাবি এবং বিভিন্ন স্বতন্ত্র সূত্রের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের ১ মার্চ ইরান তাদের হাইপারসনিক মিসাইল দিয়ে তেল আবিবের ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে সফল আঘাত হেনেছে।
এছাড়া ২৭ মার্চ একটি ফাতাহ-২ মিসাইল পেতাহ তিকভায় ইসরায়েলি ড্রোন কারখানা ধ্বংস করেছে বলে জানা গেছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখন মার্কিন ‘ডার্ক ঈগল’ এবং ইরানি ‘ফাতাহ’ এর মধ্যে এক অসম অথচ বিধ্বংসী প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

