মোঃ তামজিদ হোসেন রুবেল, রামগঞ্জ প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভার এক কর আদায়কারীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত বেতন-ভাতা গ্রহণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কর আদায়কারী মোহাম্মদ আবু ইউছুপ ২০১৫ সাল থেকে ১২তম গ্রেডের পরিবর্তে ১১তম গ্রেডে বেতন-ভাতা ভোগ করে আসছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল এ ঘটনার তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
জানা গেছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০১৫ সালের ১২ জানুয়ারি জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া দেশের কোনো ‘খ’ শ্রেণীর কর আদায়কারীকে ‘ক’ শ্রেণীর কর আদায়কারী হিসেবে বেতন প্রদান করা যাবে না। একই সঙ্গে এর আগে এভাবে দেওয়া বেতন-সংক্রান্ত আদেশও বাতিল ঘোষণা করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মোহাম্মদ আবু ইউছুপ ২০১৫ সালে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি পৌরসভায় কর্মরত থাকাকালে তৎকালীন মেয়রের মাধ্যমে ‘ক’ শ্রেণীর কর আদায়কারী হিসেবে ১১তম গ্রেডে বেতন-ভাতা গ্রহণ শুরু করেন। পরবর্তীতে বদলিজনিত কারণে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর রামগঞ্জ পৌরসভায় যোগদান করলেও একই গ্রেডে বেতন-ভাতা গ্রহণ অব্যাহত রাখেন।
সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ অনুযায়ী বিধিবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত বেতন-ভাতা গ্রহণ সরকারি অর্থ আত্মসাতের শামিল এবং এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের অপরাধে পদোন্নতি স্থগিত, বেতন বৃদ্ধি বন্ধ, বাধ্যতামূলক অবসর, চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্তসহ অতিরিক্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার বিধান রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে কর আদায়কারী মোহাম্মদ আবু ইউছুপ বলেন, “আমি নিয়ম অনুযায়ী ২০১৫ সালে আবেদন করি। তখন সোনাইমুড়ি পৌরসভার মেয়র রেজুলেশন করে আমার বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করেন। এরপর থেকে সার্ভিস বুক অনুযায়ী আমি বেতন-ভাতা গ্রহণ করে আসছি। মন্ত্রণালয়ের চিঠিটি আমার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।”
রামগঞ্জ পৌরসভার হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা প্রান গোপাল দাস জানান, “এ বিষয়ে আমার জানা নেই। সংশ্লিষ্ট ফাইলপত্র পর্যালোচনা করে দেখবো। যদি কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে পৌর প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কাজী আতিকুর রহমান বলেন, “মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া বিধিবহির্ভূতভাবে বেতন-ভাতা গ্রহণের সুযোগ নেই। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিস্তারিত খতিয়ে দেখে প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী ও সচেতন মহল।

