মোঃ রেজাউল হক শাকিল, ব্রাহ্মণপাড়া প্রতিনিধি:
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দুলালপুর-বালিনা সড়কটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ এক যুগ ধরে সংস্কারহীন পড়ে থাকা ৫.৮ কিলোমিটারের এই সড়কটি ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে।
সড়কের বিভিন্ন অংশ ভেঙে পার্শ্ববর্তী খাল ও পুকুরে বিলীন হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে দুই উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামের হাজার হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দুলালপুর-বালিনা সড়কের পুরো অংশজুড়ে এখন শুধুই ছোট-বড় গর্ত আর খানাখন্দ। বিশেষ করে সড়কের পাশে থাকা দুটি বড় পুকুরের নিজস্ব পাড় না থাকায় সড়কটিকেই পাড় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। বন্যার তীব্র স্রোতে সড়কের সেই অংশগুলো ধসে পুকুরের পেটে চলে গেছে। ফলে এই পথ দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই সড়কটি ব্রাহ্মণপাড়া ও দেবিদ্বার উপজেলার সংযোগস্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর ওপর নির্ভর করে পোমকাড়া, পূর্ব পোমকাড়া, পশ্চিম পোমকাড়া, বেড়াখলা, বালিনা, দুলালপুর, সিঙ্গারচাড়া এবং দেবিদ্বার উপজেলার ফাতেহাবাদ ও সুবিলসহ ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। যাতায়াতের বিকল্প পথ না থাকায় শিক্ষার্থী ও রোগীরা পড়েছেন সবচেয়ে বিপাকে। ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাদা ও গর্ত পেরিয়ে যাতায়াত করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সড়কটি অনেক আগে থেকেই নষ্ট ছিল। বন্যার পর এটি এখন চলাচলের অনুপযোগী। আমাদের কোথাও যেতে হলে মাইলের পর মাইল পথ হেঁটে গিয়ে গাড়িতে উঠতে হয়। ১২ বছরেও কেউ এই সড়কটি ঠিক করল না।”
দুলালপুর ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুল হক ভূইয়া রিপন বলেন, “এটি এখন আর সড়ক নয়, যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সুস্থ মানুষও এই পথে চলতে পারে না। কয়েকবার টেন্ডার হয়েও অজ্ঞাত কারণে কাজ বাতিল হয়েছে। অচিরেই এটি মেরামত করা জরুরি।”
উপজেলা প্রকৌশলী গোলাপ হোসেন ভূইয়া জানান, টেন্ডার প্রক্রিয়া একবার শুরু হলেও তা বাতিল হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন টেন্ডার আহ্বান করে রাস্তাটির কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহমুদা জাহান বলেন, “রাস্তাটি কয়েক বছর ধরেই চলাচলের অনুপযোগী। আমরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানিয়েছি। জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।”
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, প্রতিশ্রুতির বেড়াজালে আটকে না রেখে দ্রুত যেন সড়কটি টেকসইভাবে সংস্কার করা হয়।

