সত্যজিৎ দাস, (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বহু বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে,ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে এবং অসংখ্য স্থানে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।
ঝড়ের সময় সড়ক ও রেললাইনের ওপর গাছ উপড়ে পড়ায় অন্তত এক ঘণ্টা যানবাহন ও ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। বিশেষ করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান এলাকাতেও একাধিক গাছ ভেঙে পড়ে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়,সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাত ৯টা ১০ মিনিট থেকে ৯টা ৩৫ মিনিট পর্যন্ত প্রায় ৩০ নটিক্যাল মাইল (প্রায় ৫৫ কিলোমিটার) বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। একই সঙ্গে সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টা পর্যন্ত মোট ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির তথ্য অনুযায়ী,সোমবার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোর পর্যন্ত কয়েক দফা ঝড় ও বজ্রপাতে মৌলভীবাজার ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে ৩৫টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে যায়, ৫১টি খুঁটি হেলে পড়ে, ৪১৫টি স্থানে তার ছিঁড়ে যায় এবং ৩৫টি ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাশাপাশি বহু বিদ্যুৎ মিটারও নষ্ট হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ চালিয়ে গেলেও এখনো বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি।
অন্যদিকে,সোমবার রাতে ঢাকা-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কে গাছ ভেঙে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে রেললাইনের ওপর গাছ পড়ে কয়েকটি ট্রেন প্রায় এক ঘণ্টা বন্ধ ছিল।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়,শহরতলীর সুরমা ভ্যালি এলাকায় রেললাইনের ওপর গাছ পড়ে যাওয়ায় তা অপসারণ করতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। এছাড়া ইছবপুর এলাকায় জাতীয় মহাসড়কের ওপর গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে পরে তা সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
মঙ্গলবার সকালেও লাউয়াছড়া এলাকায় বেশ কিছু গাছ উপড়ে পড়ে। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে অন্তত ১০টি গাছ সরিয়ে দেন।
সার্বিকভাবে,আকস্মিক এই কালবৈশাখী ঝড় শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের এলাকায় জনজীবনে বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি করেছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

