মোঃ তৌহিদুর রহমান, রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
রাজবাড়ীর পাংশায় কৃষিপণ্য বিক্রয়ে ধলতা নেওয়া বন্ধ, ফসলের লাভজনক দাম নিশ্চিত, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র ও শস্য বীমা চালুসহ আট দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (২৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে পাংশা উপজেলা কার্যালয়ের সামনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি পাংশা উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পাংশা উপজেলা কৃষক সমিতির সভাপতি তোফাজ্জেল হোসেন। সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি আব্দুস সামাদ মিয়া, জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি আব্দুস সাত্তার মন্ডল ও সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান।
বক্তারা বলেন, বর্তমান বাজারে সার, ডিজেল, বীজ, কীটনাশক ও বিদ্যুতের দাম ক্রমাগত বাড়ছে। কিন্তু সেই অনুপাতে পেঁয়াজ, রসুন, ধান, পাটসহ অন্যান্য ফসলের দাম বাড়েনি। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকসহ সাধারণ মানুষ।
পাংশা উপজেলা একটি কৃষিপ্রধান এলাকা। এখানে পেঁয়াজ, পাট, ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদিত হয়। কিন্তু হাটবাজারে এসব পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত প্রতারণার শিকার হচ্ছেন কৃষকরা। পেঁয়াজ বিক্রি করতে গেলে প্রতিমণে আড়াই কেজি ধলতা ও এক কেজি তোলা বাবদ অতিরিক্ত পেঁয়াজ দিতে হচ্ছে। এছাড়া কোনো ফসলের ওজন ৩৯ কেজি ৯০০ গ্রাম হলে সেই ৯০০ গ্রাম বাদ দিয়ে ওজন ধরা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, বিভিন্ন সময় কৃষকরা এই ধলতা নেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে আসছেন। কিন্তু কোনো প্রতিকার মিলছে না। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করার পরও যদি এই প্রতারণা বন্ধ না হয়, তাহলে কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলনের মাধ্যমে ধলতা নেওয়া বন্ধ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তারা।
সমাবেশে বক্তারা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ফসল ক্রয়, বোরো মৌসুমে ধান আমদানি স্থগিত, সার-বীজ-কীটনাশকসহ কৃষি উপকরণের দাম কমানো, সবজি সংরক্ষণে পর্যাপ্ত কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ, বিএডিসিকে সচল করা এবং পল্লী বিদ্যুৎ ও ভূমি অফিসের অনিয়ম, হয়রানি ও দুর্নীতি বন্ধের দাবি তুলে ধরেন।
বিক্ষোভ শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

