কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার কামাত আঙ্গারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব রূপ নিয়েছে প্রকাশ্য সংঘাতে। সুপার পদ নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। এতে করে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়ে পড়েছে, দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
জানা যায়, সাময়িক বরখাস্ত প্রত্যাহারের পর সুপার মো. সাইদুর রহমানকে দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে কোন প্রভাব বা ক্ষমতার বলে ভারপ্রাপ্ত সুপার এখনও দায়িত্বে বহাল রয়েছেন।
গত ২৪ এপ্রিল সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ডা. মো. মজিদুল হকের উপস্থিতিতে দায়িত্ব হস্তান্তরের কথা বলা হলেও, ২৬ এপ্রিল সকালে মাদ্রাসায় যোগ দিতে গিয়ে সাইদুর রহমান অফিস কক্ষ তালাবদ্ধ পান। পরে বিকেলে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে তালা খুলে কক্ষে প্রবেশের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় ভারপ্রাপ্ত সুপারের সমর্থকরা জড়ো হয়ে সুপারকে ঘিরে ফেলেন এবং একপর্যায়ে তাঁকে কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত সুপার আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, তিনি কোনো ‘মব’ তৈরি করেননি এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। অন্যদিকে সুপার সাইদুর রহমান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী যোগ দিতে গেলে তাঁকে লাঞ্ছিত করা হয় এবং জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়। তিনি এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি আজিম উদ্দিন জানান, পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে উদ্ধার করে। লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত নির্দেশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে করে প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যেখানে নিয়মের চেয়ে প্রভাবশালীদের ভূমিকা বেশি দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।
এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৬ জন শিক্ষার্থীর মূল সনদ এখনও বিতরণ না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সনদ না পেয়ে তারা বিক্ষোভও করে।
অভিযোগ রয়েছে, দুই শিক্ষক-কর্মচারীর ৬-৭ মাসের বেতন কোনো নোটিশ ছাড়াই স্থগিত রাখা হয়েছে, যা বিধিবহির্ভূত। একই সঙ্গে এক চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর বয়সোত্তীর্ণ হওয়ার পর বেতন বন্ধের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পুনরায় বেতন চালুর ঘটনাও প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয়দের মতে, একই প্রতিষ্ঠানে একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যা প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি করছে। সব মিলিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গাফিলতি ও তদন্তের অভাবে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

