সারাদেশে কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে তীব্র বজ্রপাতে গত কাল ২৬ এপ্রিল (রবিবার) এক বিভীষিকাময় দিন পার করেছে সাতটি জেলা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে নারী ও শিশুসহ মোট ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই বজ্রবৃষ্টির ঘটনা ঘটে।
জেলাভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান:জেলানিহতের সংখ্যাবিস্তারিত পরিস্থিতিসুনামগঞ্জ ৪ জন হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতের শিকার হন কৃষকরা। সিলেট ৩ জনবাড়ির আঙিনায় ও বিলে কাজ করার সময় প্রাণহানি ঘটে।পাবনা ২ জন মাঠে কাজ করার সময় এবং গাছতলায় আশ্রয় নিয়ে বজ্রপাতে মৃত্যু।
রাজশাহী ২ জন আম কুড়াতে গিয়ে এবং জমিতে সেচ দেওয়ার সময় দুর্ঘটনা।ব্রাহ্মণবাড়িয়া১ জনমাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতের কবলে পড়েন।কিশোরগঞ্জ ১ জন ধান মাড়াইয়ের সময় বজ্রপাতে মৃত্যু।লালমনিরহাট ১ জন ঝড়ের সময় গরু আনতে গিয়ে প্রাণ হারান।বজ্রপাত থেকে রক্ষায় জরুরি সতর্কতা:খোলা জায়গা এড়িয়ে চলা: বজ্রবৃষ্টির সময় খোলা মাঠ বা ধানক্ষেতে অবস্থান করা অত্যন্ত বিপজ্জনক।গাছতলায় আশ্রয় নয়: উঁচু গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকুন।ধাতব বস্তু বর্জন: এই সময়ে হাতে ছাতা, লাঙল বা কোনো ধাতব বস্তু রাখা পরিহার করুন।স্থির অবস্থানে থাকা: দ্রুত কোনো পাকা দালানে আশ্রয় নিন এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম থেকে দূরে থাকুন।নিহতদের অধিকাংশেরই মৃত্যু হয়েছে খোলা মাঠে কাজ করার সময়। হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড়ের কবলে পড়ায় তারা নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার সুযোগ পাননি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনগুলোর পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

