সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর :
পেট্রোল ও অকটেনের সংকটের পাশাপাশি ডিজেলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় কৃষি কার্যক্রমে ধীরগতি নেমে এসেছে। বিশেষ করে ইরি-বোরো মৌসুমে সেচনির্ভর চাষাবাদের জন্য ডিজেলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্যালো মেশিন চালানো, জমি চাষের জন্য ট্রাক্টর ব্যবহার এবং ফসল পরিবহনের কাজে ডিজেল অপরিহার্য হলেও চাহিদা অনুযায়ী তা পাওয়া যাচ্ছে না। এতে করে অনেক ক্ষেত্রেই সময়মতো জমিতে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, যা ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কৃষি মৌসুমে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হয়ে সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
উলিপুরের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিং হওয়ায় স্যালো মেশিন চালানোর জন্য ডিজেলের প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুই-তিনটি পাম্প ঘুরেও পর্যাপ্ত ডিজেল পাই না। জমিতে সেচ দিতে দেরি হচ্ছে, ফলে ধানের ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দশমাইল এলাকার কৃষক নুর ইসলাম বলেন, দুইটা তেলের পাম্প ঘুরে ডিজেল না পাওয়ায় অবশেষে এই পাম্পের তেল পেয়েছি। তবে আমার প্রতিদিনের চাহিদা ২০ লিটার , পেলাম ১০ লিটার ডিজেল এই তেল দিয়ে আমার চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। শেষ সময়ে সেচ দিতে না পারলে পুরো ফসলই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। এখন বাধ্য হয়ে কম তেল দিয়ে কাজ চালাতে হচ্ছে।
ঘাবুরার কৃষক রহিম উদ্দিন জানান, “আগে সহজেই ডিজেল পাওয়া যেত, এখন লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয়। অনেক পাম্প চাহিদা মত তেল দিতেও পারে না। হলে কৃষি কাজের আমাদের প্রভাব পড়ছে।
বিরল এশিয়া পাম্পের কর্মচারী মো. সোহেল রানা বলেন, “ডিজেলের সরবরাহ আগের তুলনায় কিছুটা কম থাকায় সব গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। চাষীদেরকে দশ লিটার চাহিদা থাকলে ৬-৭ লিটার দেওয়া হচ্ছে। তবে যানবাহন বিশেষ করে ট্রাক পিকআপ ভ্যান, ট্রাক্টর চাহিদা মত তেল প্রদান করা হচ্ছে।
একই পাম্পের আরেক কর্মচারী কামরুল হাসান জানান, “সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী আমরা তেল দিচ্ছি, তবে চাহিদা বেশি থাকায় সংকট তৈরি হচ্ছে। তবে গত ২০ দিনের তুলনায় তেলের সরবরাহ একটু বেড়েছে। তাই আমরা চাষীদের সহ মোটরসাইকেল বাইকারদের পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল চাহিদার মত প্রদান না করতে পারলেও সবাইকেই তেল দিতে পারছি।
দিনাজপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মাসুম তুষার বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তি দিয়ে চাষীদের কে তেলের প্রত্যয়ন পত্র প্রদান করা হচ্ছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা এই প্রত্যয়ন পত্র তাদের কৃষি জমির উপর ভিত্তি করি এবং আমাদের উপর ভিত্তি করে প্রত্যয়ন পত্র দেয়া হচ্ছে। প্রত্যয়ন পত্র তেল পাম্প কর্তৃপক্ষকে প্রদর্শনের সাথে সাথেই চাহিদা মোতাবেক তেল প্রদান করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

