নুরী আক্তার মুন, ডেস্ক রিপোর্ট :
প্রিডায়াবেটিস বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে বিপুল সংখ্যক মানুষ এই ঝুঁকিতে রয়েছেন। সময়মতো নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে এটি টাইপ–২ ডায়াবেটিসে রূপ নিতে পারে, যা হৃদরোগ, স্নায়ুজনিত জটিলতা ও দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো গুরুতর সমস্যার কারণ হতে পারে।
এমন প্রেক্ষাপটে নতুন এক গবেষণায় বলা হয়েছে, উচ্চমাত্রার ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নির্দিষ্ট কিছু প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নাল JAMA Network Open-এ।
গবেষণার বিবরণ
যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা ‘ডিটুডি’ ট্রায়ালের তথ্য পুনর্বিশ্লেষণ করেন। এতে ২,০৯৮ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন। তাদের মধ্যে একটি দল প্রতিদিন ৪,০০০ আইইউ ভিটামিন ডি গ্রহণ করেন এবং অন্য দল প্লাসেবো গ্রহণ করেন। গবেষণার সময়কাল ছিল প্রায় আড়াই বছর।
ডায়াবেটিস নির্ণয়ে ফাস্টিং গ্লুকোজ, ২ ঘণ্টার গ্লুকোজ এবং এইচবিএওয়ানসি পরীক্ষার মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়।
গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল
গবেষণায় দেখা যায়, যাদের শরীরে নির্দিষ্ট ভিটামিন ডি রিসেপ্টর জিন ভ্যারিয়েন্ট রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি গ্রহণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ১৯ শতাংশ কমেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের মধ্যে এই জিন ভ্যারিয়েন্ট থাকতে পারে।
গবেষকরা বলছেন, এই ফলাফল ভবিষ্যতে ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতির সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
ভিটামিন ডির ভূমিকা
ভিটামিন ডি শরীরের ইনসুলিন প্রতিক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে। তবে জিনগত পার্থক্যের কারণে এর কার্যকারিতা ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।
সতর্কতা
গবেষণায় ব্যবহৃত উচ্চমাত্রার ভিটামিন ডি সাধারণ দৈনিক সুপারিশের চেয়ে বেশি হলেও বড় ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তবুও বিশেষজ্ঞরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রার ভিটামিন ডি গ্রহণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডায়াবেটিস প্রতিরোধে এখনো সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন—সুষম খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম ও ওজন নিয়ন্ত্রণ।

