পেশাজীবী ও সাংবাদিক মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র’র দায়ের করা একাধিক ফৌজদারি মামলায় আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও আসামিরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। উল্টো আসামিরা একটি সুসংগঠিত ‘প্রতারক সিন্ডিকেট’ গঠন করে ভিক্টিম শুভ্রকে জিম্মি করা, পেশাগত কাজে বাধা প্রদান এবং মামলার সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার মাধ্যমে ধারাবাহিক অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে অপরাধী চক্রটিকে দমনে এবং দ্রুত গ্রেপ্তারে বিশেষ দিক-নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

বাদী মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র জানান, তাঁর দায়ের করা জি আর মামলা নং ৪১(৮৫০)/২৪ (তারিখ: ১৪ নভেম্বর ২০২৪) এবং দস্যুতা সংক্রান্ত অপর মামলা (জি আর-৮১২/২৫)-তে আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এছাড়া সম্প্রতি আসামিদের ধারাবাহিক ও সংঘবদ্ধ অপরাধের প্রেক্ষিতে গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় (১৪৩/৩২৩/৩০৭/৩৮৫/৩৬৫/৪২০/৫১১/৫০০/৩৭৯/৫০৬(২)/৩৪) আরও একটি সি আর মামলা (৬১৫/২৬) রেকর্ড করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন।
বাদীর অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা পরিকল্পিতভাবে প্রায় ৩৭টি পয়েন্টে অপরাধ সংঘটন করে আসছে। যার মধ্যে রয়েছে: মানহানি ও সাইবার হয়রানি: ধর্মীয় ও ব্যক্তিগত অনুভূতিতে আঘাত, ফেসবুকে আপত্তিকর ছবি প্রকাশ এবং ‘বুলিং’ (যা সিআইডিতে তদন্তাধীন)।
সাংবাদিক শুভ্রর বাসায় লাশের কাফনের কাপড় পাঠিয়ে সংবাদ প্রকাশ বন্ধের হুমকি প্রদান। বাসার সামনে গোপন ক্যামেরা বসিয়ে ভিডিও ধারণ (যা পুলিশ জব্দ করেছে), মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার দিয়ে অপহরণের চেষ্টা এবং ২৫ লাখ টাকার বেশি সম্পদ লুট ও চাঁদাবাজি।

‘স্যার চক্র’ নামীয় একটি ভুয়া প্রশাসনিক পরিচয়ধারী গ্রুপের মাধ্যমে নাশকতা এবং কতিপয় অসাধু লোকের সহায়তায় ‘সেফ জোন’ তৈরি করে অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা।
বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। আইজিপি’র অভিযোগ সেল থেকে ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে জারি করা এক স্মারকে কুমিল্লার পুলিশ সুপারকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে কুমিল্লার পুলিশ সুপার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কোতোয়ালি মডেল থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা ও অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদ আনোয়ার বলেন, “পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে আমরা বাদীর বাসায় গিয়েছি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছি। এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলার পরোয়ানা রয়েছে।”
দ্রুত এই অপরাধী চক্রকে গ্রেপ্তার করা না হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি এবং একজন পেশাদার সাংবাদিকের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

