মৌলভীবাজার প্রতিনিধি:
মৌলভীবাজারের কাউয়াঘিঘি হাওরে এখন বোরো ধান কাটার মহোৎসব চলছে। রাজনগর ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে সোনালী ধান ঘরে তোলার ব্যস্ততা কৃষকদের চোখেমুখে। তবে ভালো ফলনের আনন্দের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতের আশঙ্কায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে।
ধান কাটার বর্তমান পরিস্থিতি হাওর এলাকায় এখন পুরোদমে ধান কাটার কাজ চলছে। বিশেষ করে ব্রি-২৮ ও ব্রি-৯৬ এর মতো আগাম জাতের ধান কাটার কাজ শেষের দিকে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে এবং বিঘা প্রতি ফলন গত বছরের তুলনায় বেশ আশাব্যঞ্জক। শ্রমিক সংকট এড়াতে বড় কৃষকরা কম্বাইন হারভেস্টার ব্যবহার করে দ্রুত ধান কাটছেন। তবে ডিজেল সরবরাহ ও জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে কৃষকদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষ ও উদ্বেগের খবর পাওয়া গেছে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে এপ্রিলের শেষ ও মে মাসের শুরুতে সিলেট বিভাগে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ২৫ এপ্রিলের পর থেকে বৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কাউয়াঘিঘি হাওরের খোলা প্রান্তরে ধান কাটার সময় বজ্রপাত বর্তমানে কৃষকদের জন্য বড় আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া কালবৈশাখীর সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হলে আধাপাকা ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা। যদিও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের পাহাড়ি ঢল বা আগাম বন্যার সতর্কবার্তা নেই, তবুও দুর্যোগের আশঙ্কায় কৃষকরা দিন কাটাচ্ছেন উৎকণ্ঠায়।
কৃষি বিভাগের পরামর্শ এ পরিস্থিতিতে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের প্রতি বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে কৃষি বিভাগ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ধানের অন্তত ৮০ শতাংশ পেকে গেলেই দেরি না করে দ্রুত কেটে মাড়াই করে ঘরে তোলা জরুরি। এছাড়া কৃষকদের প্রতিদিন স্থানীয় আবহাওয়ার আপডেটের দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টি বা ঘন কালো মেঘ দেখা দিলে মাঠের খোলা জায়গায় অবস্থান না করে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে যাওয়ার জন্যও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কাউয়াঘিঘি হাওরের নিচু এলাকার ধানগুলো যদি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে নিরাপদে গোলায় তোলা সম্ভব হয়, তবেই স্থানীয় কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক লোকসান থেকে রক্ষা পাবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

