দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল—সবখানেই বিদ্যুতের তীব্র সংকটে নিত্যদিনের কাজকর্মে নেমে এসেছে স্থবিরতা। দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ যেমন দুর্ভোগে পড়ছেন, তেমনি ব্যবসা-বাণিজ্যেও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ক্ষতি।
সারাদিনে মাত্র দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। কখন বিদ্যুৎ আসবে, আবার কখন চলে যাবে—এর কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি না থাকায় মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
অতিরিক্ত গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বৃদ্ধরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতেও বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়ছে বলে জানা গেছে, যদিও জরুরি সেবা চালু রাখতে জেনারেটরের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
দিনাজপুর শহরের ফাস্টফুড ব্যবসায়ী আব্দুস সালাম জানান, বিদ্যুতের অভাবে দোকানপাট চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ফ্রিজনির্ভর ব্যবসা, যেমন—আইসক্রিম, ঠান্ডা পানীয় ও মাংস সংরক্ষণ ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
দিনাজপুর শহরের ব্যবসায়ী আব্দুর রহিম বলেন, সারাদিনে বিদ্যুৎ না থাকলে পণ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় না। ফলে প্রতিদিনই লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।
অভিভাবক হাসনাহেনা বলেন, শুধু ব্যবসা নয়, শিক্ষা কার্যক্রমেও এর প্রভাব পড়েছে। শিক্ষার্থীরা রাতে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। অনেক এলাকায় বিকল্প হিসেবে জেনারেটর বা সোলার ব্যবহার করা হলেও তা সবার জন্য সম্ভব নয়। ফলে পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে বিঘ্ন ঘটছে।
গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কৃষকরা সেচ কাজে বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় লোডশেডিংয়ের কারণে ফসল উৎপাদন হুমকির মুখে পড়ছে।
কৃষক মোসলেম উদ্দিন কৃষক জানান, নির্ধারিত সময়ে সেচ দিতে না পারায় জমিতে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ সিনিয়র মহাব্যবস্থাপক আখতার হোসেন জানান, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতি ও জ্বালানি সংকটের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তারা আশ্বাস দিয়েছেন।

