কমল কৃষ্ণ দে, মাটিরাঙ্গা সংবাদদাতা:
সম্প্রতি খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গায় স্কুল পড়ুয়া এক ত্রিপুরা কিশোরীর মৃত্যূর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারো পাহাড়কে উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে একটি মহল। এমনটাই দাবি করছে একটি সূত্র।সামজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন আইডি থেকে ধর্ষণ জনিত কারণে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও স্বজনরা বলছেন অন্য কথা।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, মাটিরাঙ্গা সাপমারা এলাকার নিবাররন ত্রিপুর মেয়ে কনিকা ত্রিপুরা (১৪)। সে ইসলামপুর ১০নং জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। স্কুলে যাওয়া আসার পথে একই গ্রামের চন্দ্র কুমার ত্রিপুরার ছেলে কৃপন ত্রিপুরা (২২) সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। কৃপন সম্পর্কে আত্মীয় ও বেকার হওয়ার কারণে কনিকার পরিবার মেনে নিতে পারেনি। ফলে সম্পর্ক চিহ্ন করতে কনিকাকে তার পরিবার বিশেষ করে তার মা বিভিন্ন ভাবে তাকে শাষন করলেও স্কুলে যাওয়া আসার সময় দেখা করতো।
গত ১৩ এপ্রিল বাংল নববর্ষ ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ‘বৈসু’ উৎসব উপলক্ষে কণিকা তার প্রেমিক কৃপণ ত্রিপুরার সাথে নুনছড়ি দেবতা পুকুরে ঘুরতে যাওয়ার বায়না ধরে। তাতে তার মা অস্বীকৃতি জানিয়ে তাকে মারধর করেন। এতে মায়ের উপর অভিমান কনিকা পরের দিন ১৪ এপ্রিল দুপুরের দিকে নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত না করেই লাশের দাহ সম্পন্ন করা হয়। ঘটনার পর স্থানীয় ও পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় এবং ধর্ষণের কোনো ঘটনা ঘটেনি । মায়ের সাথে অভিমান করেই আত্মহত্যা করেছে বলে সূত্র জানায়।
পক্ষান্তরে একটি পক্ষ দাবি করছে কনিকা ত্রিপুরা তার প্রেমিকের সাথে ঘুরতে গেলে কৌশলে এ্যালকোহল মিশ্রিতখাবার খাইয়ে জোরপূর্বক জোরপূর্বক ধর্ষন করে। বিষয়টি তাঁর মা’কে জানালে তিনি প্রেমিক কৃপনের পরিবার কে জানান। এতে কৃপনের পরিবার মানতে রাজি না হওয়ায় উভয় পরিবারের মাঝে ঝগড়াঝাটি হয়। এতে কনিকা সহ্য করতে না পেরে নিজ ঘরে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে। আত্মহত্যা করার পূর্বে তার সাথে অন্যায় হয়েছে উল্লেখ করে চিরকুট লিখে গেছে বলে সূত্র দাবি করেন।
স্থানীয় কার্বারি সহদেব ত্রিপুরা জানান কিশেরীর দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্কছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে কিশোরীর মা তার প্রেমিকের সাথে দেখা করতে বাধা প্রদান করে । এতে অভিমান করে আত্মহত্যা করে । এলাকাটি অতিব দুর্গম ওয়ায় প্রশানকে না জানিয়ে মৃতদেহের দাহ কার্য সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।
কনিকার নিকট আত্মীয়, মাটিরাঙ্গা ত্রিপুরা কল্যান সংসদের সভাপতি ও নতুনপাড়া সরকারী প্রাথিসিক বিদ্যালয় প্রধান ষিক্ষক কিরতি ত্রিপুরা জানান, ধর্ষন নয়, প্রেম সংঘঠিত ঘটনা থেকে মায়ের উপর অভিমান করে কনিকা আত্মহত্যা করেছে। বিষয়টি সামাজিক ভাবে সমাধান করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মাটিরাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ শাহেদ উদ্দিন জানান, বিষয়টি নিয়ে কেউ থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ ফেলে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় পদক্ষেট গ্রহন করা হবে কলে জানা তিনি।

