আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নিজেদের সামরিক আধিপত্য ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল পাকিস্তান। চীনের সঙ্গে প্রায় ১২ বিলিয়ন (১,২০০ কোটি) ডলারের একটি বিশাল প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইসলামাবাদ, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রচুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চুক্তির মূল আকর্ষণ: আধুনিক সমরাস্ত্রের সমাহার
এই চুক্তির আওতায় পাকিস্তান চীন থেকে এমন কিছু উন্নত প্রযুক্তি ও যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করছে, যা এই অঞ্চলে শক্তির ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। প্যাকেজটির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
J-35A স্টেলথ যুদ্ধবিমান: পাকিস্তান বিমান বাহিনীর জন্য ৪০টি পঞ্চম প্রজন্মের উন্নত J-35A স্টেলথ যুদ্ধবিমান। এটি রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম এবং আধুনিক আকাশযুদ্ধের অন্যতম শক্তিশালী হাতিয়ার।
KJ-500 সতর্কবার্তা বিমান: ৬টি আধুনিক KJ-500 আকাশ সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রণ বিমান (AEW&C), যা মাঝ আকাশে শত্রুর গতিবিধি নজরদারি এবং যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।
HQ-19 ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও দূরপাল্লার হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম অত্যাধুনিক HQ-19 প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
আর্থিক সক্ষমতা ও সৌদি আরবের ভূমিকা
১২ বিলিয়ন ডলারের এই বিশাল ব্যয়ভার পাকিস্তানের বর্তমান নড়বড়ে অর্থনৈতিক অবস্থায় একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই বিপুল অর্থের সংস্থান আসতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব থেকে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের ‘যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। দুই দেশের কৌশলগত ও নিরাপত্তা স্বার্থে ব্যাপক মিল থাকায়, এই মেগা চুক্তির পেছনে রিয়াদের বড় ধরনের অর্থায়ন বা গ্যারান্টি থাকার সম্ভাবনা জোরালো হচ্ছে।
আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোয় বড় পরিবর্তন
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্যাকেজটি পাকিস্তানের বিমান বাহিনী ও আকাশ প্রতিরক্ষা কাঠামোতে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। বিশেষ করে আধুনিক আকাশযুদ্ধ (Air-to-Air Combat) এবং দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক হুমকির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী দেয়াল বা ‘আকাশ ঢাল’ তৈরি করবে এই সমরাস্ত্রগুলো।
একদিকে সীমান্তে উত্তেজনা এবং অন্যদিকে বিশ্বরাজনীতির মেরুকরণ—এমন পরিস্থিতিতে এই চুক্তিটি পাকিস্তানের জন্য একটি বড় কৌশলগত বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই শক্তিশালী সমরাস্ত্র হাতে পাওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের শক্তির ব্যবধান কতটা কমে আসে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

