মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগরের প্রায় শতাধিক গ্রাহককে বেশি মুনাফার লাভ দেখিয়ে কয়েক কোটি আমানতের টাকা নিয়ে উদাও হয়ে গেছে “মধ্যনগর রূপসী বাংলা” নামক সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় নামক একটি স্থানীয় সমিতি।জমানো টাকা হাড়িয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অসংখ্য গ্রাহক।
কষ্টার্জিত জমানো টাকা ফিরে পেতে ১৯এপ্রিল রোববার আড়াইটার সময় সদর শহীদ মিনারের পার্শ্ববর্তী “রুপসী বাংলা” সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিঃকার্যালয়ের সম্মুখেই প্রতারিত হওয়া অসংখ্য গ্রাহকের মানববন্ধন করেন।প্রতারণার স্বীকার হওয়া গ্রাহকগণ।
২০২২সালের সুনামগঞ্জ জেলা সমবায় অফিস থেকে নিবন্ধন নিয়ে মধ্যনগর বাজারে এই সমিতি কার্যক্রম চালু করে।স্থানীয় কয়েকজন কর্মী নিয়োগ দিয়ে এই এনজিও’র কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন রফিকুল ইসলাম নামীয় এক ব্যাক্তি ও মধ্যনগরের স্থানীয় বাসিন্দা অমিয় ভূষণ কর মন্টু।
এরপর থেকে গ্রাহকের কাছ থেকে ডিপিএস ও দৈনিক সঞ্চয়ে বেশী মুনাফা নেওয়ার জন্য নানান কৌশল অবলম্বন করেন এবং সর্বশ্রেনীর ব্যাবসায়ী,শ্রমিক,শিক্ষক,ফেরী দোকানী সহ অনেকেই উদ্ধুদ্ধ হন।
কিন্তু পরবর্তীতে আমানতের টাকা ফেরৎ দিতে পারেনি রুপসী বাংলা কতৃপক্ষ।এবং অসংখ্যবার ঘুড়াঘুড়ি করে গ্রাহকের প্রয়োজনে জমাকৃত টাকা উত্তোলন করতে ব্যর্থ হন গ্রাহকরা।বিগত দুই মাস আগে একেবারেই আত্মগোপনে চলে গেছেন ওই প্রতিষ্ঠানের কতৃপক্ষ দুই সত্ত্বাধিকারী রফিক ও মন্টুভূষণ কর মানববন্ধনে অভিযোগ তুলেন অংশগ্রহনকারীরা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারী বক্তারা বলেন,মন্টু ভূষণ কর ও রফিক মিয়া আমানতের অনুকূলে অধিক লাভ দিখিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিয়ে ধর্মপাশা সহ একাধিক স্থানে কয়েকটি শাখা চালু করেছে।
এবং মাস দুয়েক আগে তারা মধ্যনগর তাদের অফিসে সকল গ্রাহকদের নিয়ে মিটিং করেন।মিটিং এ রফিক মিয়া গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে বলেন,আমরা এই ব্রাঞ্চে অধীনে গ্রাহকের কাছে ৮০ লাখ টাকা পাই তার বিপরীতে গ্রহকরা আমাদের কাছে ছয় কোটি টাকার মত পাবে।আমাদের এই এনজিও’র অনেক সম্পদ আছে সেগুলো বিক্রি করে দ্রুতই আমরা পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করব।
মধ্যনগর বাজারে সেলুনে কাজ করে জীবনের সকল সঞ্চয়ের ৯ লাখ টাকা এই সমিতিতে জমা রেখেছিলেন শক্তিঋষি। তিনি তার জীবনের সকল সঞ্চয় হারিয়ে এখন নি:স্ব হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
লাকী তালুকদার জানান,বাবা মারা যাওয়ার পর তার বোনের বিয়ের জন্য জমানো দুই লাখ টাকা এই সমিতিতে আমানত রেখেছিলেন।ছয় মাস ঘুরেও তিনি টাকা ফেরৎ পাননি।টাকা নিতে এসে একাধিকবার রফিক মিয়ার হুমকির শিকারও হয়েছেন তিনি।এখন এনজিও পালিয়ে যাওয়ায় বাবা হারা বোনকে নিয়ে বেকায়দায় পরেছি।কাপড় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, আমাকে ও মাকে কৌশলে মন গলিয়ে ১০ লাখ টাকার অধিক এই সমিতিতে জমা।মধ্যনগরে সিঙ্গারা বিক্রেতা অঞ্জন তালুকদার জানান তার জীবনের সঞ্চয়ের ৪ লাখ টাকা সঞ্চয় করেছিলেন।টাকা হারিয়ে এখন তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন।কবি আকিকুর রহমান জানান,তিনি এই সমিতিতে ১০ লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন।এখন লাভ তো দূরের কথা তাদেরকে খোজে পাওয়া যাচ্ছে না।এছাড়াও ভুক্তভোগীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ব্যবসায়ী মৃদুল সকার,প্রবীর সরকার,চয়ন সরকার,শিক্ষক সমীরণ সরকার,অজয় সরকার,কমল সরকার প্রমুখ।
তবে রুপসী বাংলা সমবায় সমিতি লিঃকতৃপক্ষের সাথে কথা বলতে চাইলে মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
মধ্যনগর সমবায় কর্মকর্তা মো.শামছুল ইসলাম জানান,কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত করতে না পারায় এই সমিতিটির নিবন্ধন ২০২৫সালের নভেম্বর মাসে বাতিল করা হয়।নিবন্ধন বাতিলের পর তারা ব্যানার সরিয়ে গোপনে কার্যক্রম করলেও সেটি আমরা অবগত নই।

