গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভা-এর আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও ইসলামি চিন্তাবিদ পীরজাদা আলহাজ্ব এস. এম. রুহুল আমীন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অভিজ্ঞ এই নেতা ইতোমধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন।
১৯৪৮ সালে জন্মগ্রহণকারী এস. এম. রুহুল আমীন এক সম্ভ্রান্ত ধর্মীয় পরিবারে বেড়ে ওঠেন। তাঁর পিতা মরহুম কারী মমতাজউদ্দিন (রহ.) ছিলেন ভাংনাহাটি আলীয়া মাদ্রাসাসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং একজন পীরে কামেল। মাতা মরহুমা সৈয়দা জামরুন্নেছা ইরানের খোরাসানের মুসলিম বংশধর ছিলেন।
শিক্ষাজীবনে তিনি শ্রীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, রাজেন্দ্রপুর হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকা সিটি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্সসহ এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। পাশাপাশি ভাংনাহাটি আলীয়া মাদ্রাসা ও ঢাকা আলীয়া মাদ্রাসা থেকে এমএম ডিগ্রিও লাভ করেন। ছাত্রজীবনে তিনি তোলাবায়ে আরাবিয়া সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দুইবার দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক জীবনের শুরু ১৯৬৮ সালে ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে। তিনি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-এ সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তায় খাদ্য ও বস্ত্র সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। ১৯৭৫ সালে দেশের বিশেষ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গ্রেফতার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাবরণ করেন।
পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে জিয়াউর রহমান-এর আহ্বানে জাগো দলে যোগ দিয়ে পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এ সক্রিয় হন। তিনি শ্রীপুর থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে টানা ১৪ বছর দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ বোর্ড অব গভর্নরস, জাতীয় যাকাত বোর্ড এবং মিরপুর মাজার কমিটির সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। শিক্ষাক্ষেত্রেও তার অবদান রয়েছে—তিনি ভাংনাহাটি কামিল মাদ্রাসার অনারারি প্রিন্সিপাল এবং খলিলিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
ধর্মীয় ক্ষেত্রে তিনি চিশতিয়া, কাদিরিয়া, নকশবন্দিয়া ও মুজাদ্দাদিয়া তরিকার খিলাফতপ্রাপ্ত পীর। পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত “মমতাজিয়া দরবার শরীফ”-এর মাধ্যমে নিয়মিত কোরআন-হাদিসের দাওয়াত, ওয়াজ-নসিহত এবং আধ্যাত্মিক শিক্ষা প্রদান করে আসছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে ওয়াজ মাহফিলে অংশ নিয়ে ইসলামি মূল্যবোধ প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।
ব্যক্তিজীবনে তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপনের জন্য পরিচিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দল পরিচালনা করতে গিয়ে ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন বলেও স্থানীয়দের মধ্যে প্রচলিত রয়েছে।
পারিবারিকভাবে তিনি একটি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় পরিবারের কর্ণধার। তার একমাত্র মেয়ে এস. এম. মোমো একজন নারী উদ্যোক্তা ও সমাজসেবী। ছেলে অ্যাডভোকেট নাহীন আহমেদ মমতাজী গাজীপুর জজকোর্টের আইনজীবী, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য, জাসাস কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার মেঝ ছেলে শহীদ শামীম আহম্মেদ মমতাজী নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হন, যা এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নিজেও এমপি প্রার্থী ছিলেন। পরবর্তীতে দলীয় সিদ্ধান্তে বিএনপির প্রার্থী ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চুর পক্ষে কাজ করে তাকে বিজয়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার মেয়ে এস. এম. মোমো তারেক রহমান-এর নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রমে যুক্ত থেকে ঢাকা-১৭ ও ঢাকা-১৩ আসনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণে বিগত রাজনৈতিক সময়ে তাদের পরিবার হামলা ও মামলার শিকার হয়েছে বলেও জানা যায়।
শ্রীপুর পৌরসভার সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে তার নাম ইতোমধ্যে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিজ্ঞতা, ত্যাগ ও জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে তিনি নির্বাচনে অংশ নিলে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

