ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও অবৈধ অস্ত্রধারী চক্রকে ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি অভিযুক্ত এক ব্যক্তির ভাইয়ের পিস্তল হাতে তোলা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুর্গম চরে মা ও শিশু কন্যাকে চার দিন আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জড়িতদের নিয়ে আগেই উত্তেজনা চলছিল। এর মধ্যেই নীরব ফরাজীর ভাই দুলাল ফরাজীর অস্ত্র হাতে ছবিটি প্রকাশ্যে আসায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়।
অভিযোগ রয়েছে, নীরব ফরাজী ও তার সহযোগীরা মেঘনা নদী ও চর মোজাম্মেল এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্রের মাধ্যমে চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তার করে আসছিল। স্থানীয়দের দাবি, এই চক্রের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পেত না।
ভুক্তভোগী এক নারী অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং পরবর্তীতে মামলা করায় তাকে বাড়িঘর থেকে উচ্ছেদ করা হয়।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করায় স্থানীয় এক সাংবাদিক সাইবার হামলার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকদের দাবি, সংবাদ প্রকাশে বাধা দিতেই একটি কিশোর গ্যাং তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।
অভিযুক্ত নীরব ফরাজী তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, তবে ভাইয়ের অস্ত্র হাতে ছবির বিষয়ে কোনো মন্তব্য দেননি।
তজুমদ্দিন থানার ওসি জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় অবৈধ অস্ত্রধারী ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে স্থানীয়ভাবে ক্ষোভ ও বিক্ষোভ বাড়ছে।

