নরসিংদী ক্রাইম রিপোর্টার:
নরসিংদী সদর উপজেলার শিলমান্দী ইউনিয়নের বাগহাটা গ্রামে পূর্ব শত্রুতার জেরে বাড়িঘর ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রায় ৮০ লক্ষ টাকার মালামাল ক্ষতি ও লুট হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলোর উঠানজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙচুর হওয়া আসবাবপত্র। ঘরের ভেতরেও একই চিত্র—টেলিভিশন, ফ্রিজসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। এতে হামলার ভয়াবহতা সহজেই অনুমান করা যায়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনার সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে ২০–২৫ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্র শাবল, হাতুড়ি, পাইপ ও কুঠার নিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সমন্বিতভাবে আক্রমণ চালায়। এ সময় তারা নারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং শ্লীলতাহানির হুমকিও দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, মো. ফারুকের ঘর থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা ও স্বর্ণালংকার, খোকন ভূঁইয়ার বাড়ি থেকে প্রায় ৮ ভরি স্বর্ণ ও ৩ লক্ষ টাকা লুট করা হয়। এছাড়া প্রবাসী মাহবুবের বাড়িসহ সুমন, মঞ্জুর ও তাদের পিতা শাফি উদ্দিন খলিফার বাড়িতেও হামলা চালিয়ে অন্তত ৬টি বাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তেমন কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। এমনকি থানায় মামলা গ্রহণেও গড়িমসি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
প্রবাসী মাহবুবের স্ত্রী বলেন, “আমরা বাসায় ছিলাম না। মেয়ের চিকিৎসার জন্য শ্বশুরবাড়িতে ছিলাম। পরে খবর পাই, আমাদের ঘর ভাঙচুর করে সবকিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”
আরেক ভুক্তভোগী নারী জানান, দীর্ঘদিন পরিশ্রম করে গড়ে তোলা ঘর ও সম্পদ এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “মানুষের বাড়িতে কাজ করে, সেলাই করে টাকা জমিয়েছি। সব নিয়ে গেছে। আমি আমার সম্পদ ফেরত চাই।”
এক শিশুর মা অভিযোগ করে বলেন, তার অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসার জন্য জমানো অর্থ ও সম্পদও লুট করা হয়েছে। “আমার বাচ্চাটা হার্টের রোগী। তার চিকিৎসার জন্য যা ছিল সব নিয়ে গেছে,”—কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন তিনি।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে জজ মিয়া, তার বাবা কাদির হোসেন, স্বপন ও তার স্ত্রী ইয়াসমিন, লিমন, আসিফ, ইসলাম, রেহেনা, জাকিয়া, সেনোরা ও আসিয়াসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, তারা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তারা দ্রুত মামলা গ্রহণ ও দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত রমজান মাসে জজ মিয়ার ছেলে জুনায়েদের মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই ঘটনায় সুমনের ছেলে মাহদিকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে হত্যার দায় স্বীকার করে বলে জানা যায়।এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংশ্লিষ্ট কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

