সত্যজিৎ দাস, (মৌলভীবাজার প্রতিনিধি):
মৌলভীবাজারের বড়লেখায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্টে অসামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্যকে কেন্দ্র করে সাময়িক বিভ্রান্তি তৈরি হলেও, পরদিন অন্য প্রতিষ্ঠানে পুনঃপরীক্ষায় অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার গর্ভস্থ শিশুকে সুস্থ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান লিখিতভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।
ভুক্তভোগী সামিরা বেগম (২৩), বড়লেখা উপজেলার মুছেগুল গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী এমদাদুল ইসলাম শাফি জানান, গত ১৪ এপ্রিল স্থানীয় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে তার স্ত্রীর আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়। রিপোর্টে ‘সিঙ্গেল লাইভ প্রেগন্যান্সি’ এবং শিশুর হৃদস্পন্দন ১৪৩ বিট পার মিনিট উল্লেখ থাকলেও একই সঙ্গে ‘ফিটাল মুভমেন্ট’ ও ‘কার্ডিয়াক পালসেশন’ অনুপস্থিত বলা হয়, যা তাদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে ওই রিপোর্ট একজন চিকিৎসককে অনলাইনে দেখালে তিনি শিশুটিকে মৃত বলে ধারণা দেন এবং দ্রুত ভর্তি হয়ে প্রসব করানোর পরামর্শ দেন। এতে পরিবারটি চরম মানসিক চাপে পড়ে যায়।
তবে পরদিন সিলেটের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে পুনরায় আল্ট্রাসনোগ্রাম করানো হলে দেখা যায়,গর্ভস্থ শিশুর হৃদস্পন্দন (১৩৬ বিট পার মিনিট) ও নড়াচড়া স্বাভাবিক রয়েছে। গর্ভকাল প্রায় ২৯ সপ্তাহ এবং অন্যান্য শারীরিক অবস্থাও স্বাভাবিক পাওয়া যায়। এতে পরিবারটি স্বস্তি ফিরে পায়।
এদিকে সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টার কর্তৃপক্ষ জানায়,এটি মূলত একটি অনিচ্ছাকৃত টাইপিং ত্রুটি। চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে ভ্রূণ জীবিত ও হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক উল্লেখ থাকলেও ডাটা এন্ট্রির সময় ভুলবশত ‘প্রেজেন্ট’-এর পরিবর্তে ‘অ্যাবসেন্ট’ লেখা হয়। তারা এ ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
রিপোর্ট প্রদানকারী চিকিৎসকও জানান, তার মূল পর্যবেক্ষণ সঠিক ছিল,কিন্তু টাইপিং ভুলের কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অন্যদিকে,যিনি রিপোর্টটি দেখে প্রাথমিক মতামত দিয়েছিলেন, তিনিও স্বীকার করেন যে সরাসরি রিপোর্ট যাচাই না করে মন্তব্য করা ঠিক হয়নি এবং পুনরায় পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া উচিত ছিল।
একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বলেন,এমন ক্ষেত্রে রিপোর্ট তৈরিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন। পাশাপাশি চিকিৎসকদেরও রিপোর্ট ভালোভাবে যাচাই করে সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত। তাহলে রোগী ও স্বজনদের অপ্রয়োজনীয় আতঙ্ক এড়ানো সম্ভব।

