দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি ও ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতার মাঝে আইএমএফের ঋণের কিস্তি স্থগিত হওয়া বর্তমান সরকারের জন্য এক বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইএমএফ থেকে ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ মঞ্জুর করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ড. ইউনূসের সময়ে বাড়িয়ে ৫.৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হয়।
তবে বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে রাজস্ব ও ব্যাংকিং খাতে প্রত্যাশিত সংস্কার নিশ্চিত করতে না পারায় আইএমএফ ১.৩ বিলিয়ন ডলারের আসন্ন কিস্তিটি স্থগিত করে দিয়েছে। বিশেষ করে, সম্প্রতি সংসদে পাস হওয়া ব্যাংক রেজ্যুলেশন বিলে ‘১৮ক’ ধারা যুক্ত করে ব্যাংকগুলোর পুরনো মালিকদের ফিরে আসার সুযোগ করে দেওয়ায় আইএমএফ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ দল নিয়েও আইএমএফ মিশনকে সন্তুষ্ট করতে না পারা সরকারের নীতিগত ও কৌশলগত ব্যর্থতাকেই স্পষ্ট করে তুলছে।
অর্থনৈতিক এই অচলাবস্থার পাশাপাশি জনজীবনে নেমে এসেছে চরম ভোগান্তি। জ্বালানি সংকটের কারণে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি বন্ধ হয়ে গেছে এবং তেলের পাম্পগুলোতে এখন মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন। এই জ্বালানি স্বল্পতায় দেশের ৬৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ থাকায় গড়ে ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এর ওপর বিদ্যুতের দাম ইউনিট প্রতি ১.৮০ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে আরও উসকে দিয়েছে।
একদিকে গুম, মানবাধিকার এবং দুর্নীতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থেকে পিছু হটা, অন্যদিকে একের পর এক প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক ব্যর্থতায় বিরোধী দলগুলো রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সব মিলিয়ে বর্তমান সরকারের সামনে এখন এক কঠিন চ্যালেঞ্জের সময় উপস্থিত হয়েছে।

