আহমেদ মুনহা,চবি প্রতিনিধি:
অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে এক সিএনজিচালকের বিরুদ্ধে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট থেকে ১ নম্বর গেট পর্যন্ত নির্ধারিত সিএনজি ভাড়া ৭ টাকা। তবে পহেলা বৈশাখের ভিড়কে পুঁজি করে সিএনজিচালকরা ১০ টাকা ভাড়া দাবি করছিল।
গত ১৪ এপ্রিল (মঙ্গলবার) বিকেল মেরিন সায়েন্স বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান অতিরিক্ত ভাড়া দিতে অস্বীকৃতি জানালে হাসান নামক এক সিএনজি চালক তার ওপর চড়াও হন।
একপর্যায়ে চালক ও তার সহযোগীরা মেহেদীকে বেধড়ক মারধর করে।
এতে তার চোখের নিচে, কপাল, হাত ও বুকে গুরুতর জখম হয় এবং চোখের চশমা ভেঙে যায়। বর্তমানে তিনি চবি মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন।
চাকসু জিএস সাঈদ বিন হাবিব বলেন “পহেলা বৈশাখের বাড়তি ভিড়ের সুযোগ নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রতিবাদ করায় শিক্ষার্থীকে নৃশংসভাবে মারধর করা হয়েছে। আমরা হামলাকারীর দ্রুত গ্রেপ্তার দাবি করছি।”
ঘটনার পরপরই সাধারণ শিক্ষার্থীরা জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় শিক্ষার্থীরা কয়েকটি যৌক্তিক দাবি পেশ করেন।দাবিগুলো হলো,
১. আজ রাতের মধ্যে হামলাকারী চালককে গ্রেপ্তার করতে হবে।
২. গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত ১ নম্বর গেট রুটে সিএনজি চলাচল বন্ধ থাকবে।
৩.শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য অবিলম্বে চারটি চক্রাকার বাস চালু করতে হবে।
৪.আগামী সাত দিনের মধ্যে ১ নম্বর গেটে স্থায়ী পুলিশ বক্স স্থাপন করতে হবে।
বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল ফোরকান বলেন, “শিক্ষার্থীর ওপর হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অভিযুক্ত চালক গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত ক্যাম্পাসে সিএনজি চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সচল রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পরিবহন (চক্রাকার বাস) নিয়মিত চলাচল করবে।”
চবি মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক মোস্তফা কামাল হোসেন জানিয়েছেন,” আহত শিক্ষার্থীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন রয়েছে। তাকে বর্তমানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে”।

