পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সহযোগী হিসেবে তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম অন্তর্ভুক্ত রেখে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) অধ্যাদেশ সংশোধন করে আইনে রূপ দেওয়ার বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদের বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বিলটি উত্থাপন করেন। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
বিলের ওপর আলোচনায় বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান আপত্তি জানান এবং দীর্ঘ বক্তব্য দেন। তবে তিনি নির্দিষ্টভাবে কোন ধারায় সংশোধন চান তা উল্লেখ না করায় তার আপত্তি নিয়ে ভোটাভুটি হয়নি বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, বিরোধী জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) লিখিতভাবে জানিয়েছে, তারা বিলটির ওপর কোনো আপত্তি জানাচ্ছে না।
সংসদীয় বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনে জামায়াতের এমপিরা নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোকে পাকিস্তানি সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করা বর্তমান আইনি কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত।
নতুন আইনে মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযোদ্ধা, সহযোগী ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংজ্ঞা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগী হিসেবে মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম, রাজাকার, আলবদর, আলশামস, দালাল ও শান্তি কমিটির বিরুদ্ধে পরিচালিত সশস্ত্র সংগ্রামের উল্লেখ রয়েছে।

