জ্বালানি সংকট ও যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা থেকে বাঁচতে বিনিয়োগকারীরা এখন স্বর্ণকে নিরাপদ আশ্রয় (Safe Haven) হিসেবে বেছে নিচ্ছেন।
আউন্সপ্রতি স্বর্ণের দাম ২.৩% বেড়ে ৪,৮১২.৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের শুরুতে এটি ৩%-এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ফিউচার গোল্ডের দাম ৩.৪% বেড়ে ৪,৮৪১.৬০ ডলারে পৌঁছেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের দাম ৮% কমে গিয়েছিল। কিন্তু ৮ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এই পতন রুখে দিয়ে বাজারকে চাঙা করেছে। স্বর্ণের পাশাপাশি রূপা, প্লাটিনাম এবং প্যালাডিয়ামের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে:
৪.৯% বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৬.৪৮ ডলার। ৩.২% বেড়ে ২,০২০.৫৭ ডলার। প্যালাডিয়াম: ৪.১% বেড়ে ১,৫২৯.৩৫ ডলার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে এই সমঝোতা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান ও ওমান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবকে আলোচনার একটি ‘কার্যকর ভিত্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সাথে ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ইরানের সুপ্রিম সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, এই আলোচনা মানেই যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি নয়।
আলোচনা চলাকালীন ইরান হরমুজ প্রণালি খোলা রাখবে কি না, তা বাজারের স্থায়িত্বের জন্য সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করছে।
ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওং-এর মতে, এটি মূলত তাৎক্ষণিক স্বস্তির কারণে বাজারে একটি সাময়িক উত্থান। স্বর্ণের দামের ক্ষেত্রে এখন ৫,০০০ ডলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মনস্তাত্ত্বিক বাধা হিসেবে কাজ করবে। যদি ইরান শর্ত মেনে চলে এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি শান্ত হয়, তবে মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমে আসবে, যা সুদের হার নির্ধারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে স্বস্তি দেবে।

