অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো স্থায়ী আইনে পরিণত করার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও সদিচ্ছার অভাব দেখছে টিআইবি। বিশেষ করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার এবং গুম প্রতিরোধের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে সরকারের অবস্থানকে ‘গণতান্ত্রিক রীতিনীতির পরিপন্থি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে সংস্থাটি।
জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করে সেগুলোকে তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করেছে:
৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু আইনে পরিণত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার কমিশন ও দুদকসহ ১৬টি অধ্যাদেশ ‘আরও শক্তিশালী’ করার অজুহাতে পর্যালোচনায় রাখা হয়েছে, যার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নেই।
পুলিশ কমিশনসহ ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধিত আকারে পাসের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ রহিত করার মাধ্যমে এই খাতটিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকিতে ফেলেছে। আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেন, “গুম ও মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশকে ‘যুগোপযোগী’ করার যে কথা বলা হচ্ছে, তার ওপর আস্থা রাখা কঠিন। কারণ বাস্তবে তারা যেটা বলছেন, তার প্রতিফলন কাজে দেখা যাচ্ছে না।”
টিআইবি তাদের লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেছে যে:
বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রশাসক নিয়োগের ক্ষমতাকে নির্বাচিত সরকার এখন ‘স্বাভাবিক ক্ষমতায়’ পরিণত করতে চাইছে, যা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ইচ্ছামতো সরিয়ে দেওয়ার পথ প্রশস্ত করবে।
সরকারি হিসাব-নিরীক্ষা অধ্যাদেশটি এখনো মহা-হিসাব নিরীক্ষকের সাংবিধানিক মর্যাদা ও স্বাধীনতার পরিপন্থি রয়ে গেছে।সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশটি যেখানে আমূল সংস্কার বা বাতিলযোগ্য ছিল, সেখানে সরকার উল্টো ‘সরকারি নিয়ন্ত্রণ’ নিশ্চিত করার বিধান যুক্ত করে এটি পাস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটি জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক বলে মনে করে টিআইবি।
ক্ষমতাসীন দলের মহাসচিব ‘জুলাই সনদ’ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও টিআইবি মনে করছে, গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর (দুদক, মানবাধিকার কমিশন) সংস্কার বিলম্বিত করার মাধ্যমে সরকার আসলে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা এড়াতে চাইছে।
টিআইবির মতে, সরকার যদি অবিলম্বে এই অধ্যাদেশগুলোর ভবিষ্যৎ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়টি স্পষ্ট না করে, তবে দেশে আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়বে।

