মুহাম্মদ মহসিন আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক ট্রান্সজেন্ডার সদস্যের বিরুদ্ধে অশ্লীলতা ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষুব্ধ নাগরিকরা।
রবিবার (০৫ এপ্রিল ২০২৬) জেলা ছাত্রদলের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কসবা উপজেলার সৈয়দাবাদ আদর্শ মহাবিদ্যালয় ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক রিহিয়া রিহিকে (পূর্বনাম রেদোয়ান ইসলাম) দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহিনুর রহমান শাহিন ও সদস্য সচিব সাইফুল চক্রবর্তী এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
সংগঠনের দায়িত্বশীলরা জানান, রিহিয়া রিহি তার ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখা এবং সংগঠনের নীতিমালার বাইরে গিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ায় তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রেদোয়ান ইসলাম নাম ও শারীরিক গঠন পরিবর্তন করে ‘রিহিয়া রিহি’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর থেকেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত বিতর্কিত ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির ভিডিও প্রকাশ করে আসছিলেন। সম্প্রতি তাকে দলীয় পদ দেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।

পদ হারানোর পর রিহিয়া রিহি তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে একটি ভিডিও বার্তা ও স্ট্যাটাস দিয়ে ক্ষমা চান। তিনি লেখেন, আমি মজার ছলে বিনোদনের জন্য ভিডিওগুলো তৈরি করেছিলাম। আমার কারণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। আমাকে ভুল না বুঝে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সাহায্য করুন।
এদিকে রিহি’র কর্মকাণ্ডকে সামাজিক অবক্ষয়ের কারণ হিসেবে উল্লেখ করে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে স্থানীয় সচেতন ছাত্রসমাজ ও নাগরিকরা। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, তার আপত্তিকর ভিডিওগুলো এলাকার কিশোর ও তরুণ সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অভিযোগকারীরা দ্রুত তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান এবং প্রমাণ হিসেবে ডিজিটাল তথ্যাদি প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন।
স্থানীয়রা আশা করছেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এলাকায় সামাজিক অস্থিরতা দূর হবে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কঠোর প্রতিকার নিশ্চিত হবে।


