দেশে চলমান জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিতে সরকারি-বেসরকারি অফিস এবং ব্যাংকিং সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। একইসঙ্গে পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে শুল্কমুক্ত সুবিধায় ইলেকট্রিক বাস আমদানির সুযোগ প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এসব সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এখন থেকে দেশের সকল অফিস ও ব্যাংকিং কার্যক্রম নিচের সময় অনুযায়ী পরিচালিত হবে:
সরকারি ও বেসরকারি অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সকাল ৯টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত (গ্রাহক লেনদেন ও অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম শেষে বিকেল ৪টায় ব্যাংক সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাবে)।
জ্বালানি তেলের ওপর চাপ কমাতে তেল ও সিএনজিচালিত যানবাহনের বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক বাস চালুর ওপর জোর দিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে কিছু বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:
স্কুল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো প্রকার শুল্ক (Duty-free) ছাড়াই ইলেকট্রিক বাস আমদানি করতে পারবে।
বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বাস আমদানির ক্ষেত্রে ২০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। কোনো পুরোনো বা রিকন্ডিশনড বাস আমদানি করা যাবে না; অবশ্যই ‘ব্র্যান্ড নিউ’ ইলেকট্রিক বাস হতে হবে।
যেসব সরকারি প্রতিষ্ঠান বর্তমানে তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নিজস্ব বাস পরিষেবা প্রদান করে, তাদের ক্ষেত্রে ইলেকট্রিক বাস আমদানির বিষয়টি সরকার সরাসরি তদারকি করবে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বাংলাদেশ এই আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টার কর্মব্যস্ততার দিনে এই নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্তগুলো দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

