কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের যুবক তাইজুল ইসলাম (৩০)। যার পরিচয় এখন ছাপিয়ে গেছে ‘তাজু ভাই ২.০’ নামে। এবারের মহান স্বাধীনতা দিবসে স্থানীয় একটি বাজারে জিলাপির দাম নিয়ে করা একটি ভিডিও তাঁকে এনে দিয়েছে আকাশচুম্বী পরিচিতি। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ভিডিওটির ভিউ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৯ লাখে।
গত ২৬ মার্চ নারায়ণপুর বাজারে মুঠোফোনে একটি ভিডিও ধারণ করেন তাইজুল। সেখানে তিনি দোকানিকে জিজ্ঞেস করছিলেন জিলাপির দাম সরকারি দরের সঙ্গে মিলছে কি না। তাঁর সহজ-সরল ও ভাঙা ভাঙা সংলাপের এই ভিডিওটি মুহূর্তেই ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। মাত্র কয়েক দিনেই তাঁর পেজের অনুসারী ৬ হাজার থেকে বেড়ে প্রায় ৩ লাখে দাঁড়িয়েছে।
তাইজুলের বাড়ি ব্রহ্মপুত্র নদবেষ্টিত নারায়ণপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামে। ছয় ভাই-বোনের অভাবের সংসারে তিনি সবার বড় এবং একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর বাবা-মা দুজনেই শ্রবণপ্রতিবন্ধী ও অসুস্থ। অভাবের তাড়নায় কখনও বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়নি তাইজুলের। রাজধানীতে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করা এই যুবক পরিবারের দুঃখকষ্ট ভুলতেই শখের বশে ভিডিও করা শুরু করেন।

নিজেকে সাংবাদিক দাবি না করলেও তাইজুলের রয়েছে এক মহৎ উদ্দেশ্য। তিনি জানান:
“আমার মা-বাবা অসুস্থ। পরিবারের দুঃখকষ্ট ভুলতেই ভিডিও করি। তবে আমার বড় উদ্দেশ্য হলো আমার চরাঞ্চলের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা তুলে ধরা। জেলা শহরের সাংবাদিকরা এখানে তেমন আসেন না, তাই আমি চাই আমার ভিডিওর মাধ্যমে সবাই এই এলাকার খবর জানুক।”
ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ বা ট্রল নিয়ে তাইজুল বিচলিত নন। তাঁর প্রতিবেশী ও ইউপি সদস্য কবিরুল ইসলাম জানান, তাইজুল কাজের ফাঁকে বিনোদনমূলক ভিডিও করলেও এর আড়ালে এলাকার উন্নয়নবঞ্চনার কথা ফুটে ওঠে। চরের একজন মানুষের এমন পরিচিতিতে এলাকাবাসী গর্বিত।
নিজে ‘বোকাসোকা মানুষ’ হিসেবে পরিচয় দেওয়া তাইজুল চান চরের মানুষের উন্নয়ন। ভুল হলে তা শুধরে নিতেও তাঁর আপত্তি নেই। ভাইরাল হওয়ার মোহে নয়, বরং চরের মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠার স্বপ্ন দেখেন এই অদম্য যুবক।

